logo

ইরান যুদ্ধে চালকবিহীন ড্রোনবোট মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে চালকবিহীন ড্রোনবোট মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার সাগরে চালকবিহীন ড্রোনবোট বা ‘সারফেস ড্রোন’ মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে এই প্রথম কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের নৌযান ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিবৃতিতে পেন্টাগন জানিয়েছে, নজরদারি থেকে শুরু করে প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলা—উভয় কাজেই সক্ষম এই বিশেষ ড্রোন বোটগুলো ব্যবহৃত হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডের ‘ব্ল্যাক-সি’ কোম্পানির তৈরি ‘গ্লোবাল অটোনমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ (গার্ক) নামের ড্রোন বোটগুলো ইতোমধ্যে সামুদ্রিক টহলে বড় ভূমিকা রাখছে। 

পেন্টাগনের দাবি, এই ছোট স্পিডবোটগুলো ইতোমধ্যে ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় সাগরে নজরদারি চালিয়েছে। যদিও এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোন বোটের সাফল্য দেখা গেছে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যুদ্ধে এটি ব্যবহারের কথা স্বীকার করল।

সাশ্রয়ী ও দ্রুতগামী নৌবহর গড়তে পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরে চালকবিহীন প্রযুক্তির পেছনে বিনিয়োগ করলেও মাঠপর্যায়ে এর সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত বছর এক পরীক্ষায় এই ‘গার্ক’ বোট অন্য একটি নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি অতি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে এক পরীক্ষার সময় একটি ড্রোন বোট মাঝপথেই বিকল হয়ে যায়। প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রায় এক মাস আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের বিপরীতে ইরানও বসে নেই। তেহরানও ইতোমধ্যে তেল ট্যাংকারে হামলা চালাতে সি-ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা এই নৌযানগুলো এখন পর্যন্ত শুধু টহল ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-শক্তি মোকাবিলাই ছিল আমেরিকার এই ড্রোন বোট প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।