ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে বিশ্বব্যাপী আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনীতির বিরোধিতা তাকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তবে ইসরায়েলবিরোধী মামদানির বিরুদ্ধে তথ্য স্বাধীনতা আইনের আওতায় পাওয়া নথি থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্ট অরবিন্দ দিলওয়ার তার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।
সম্প্রতি অলাভজনক অনুসন্ধানী সংবাদ আউটলেট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিউইয়র্ক সিটির মালিকানাধীন ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ড কমপ্লেক্সে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসে আছে একটি সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কোম্পানি ক্রাই প্রিসিশন। শুধু তাই নয়, নগর কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটিকে লাখ লাখ ডলারের ভাড়া ছাড় ও নির্মাণ ভর্তুকিও দিয়েছে।
কোম্পানিটি ২০০২ সাল থেকে এই কমপ্লেক্সে আছে এবং সামরিক ব্যবহারের জন্য ‘যুদ্ধে কার্যকারিতা প্রমাণিত’ কৌশলগত সরঞ্জাম ও পোশাক তৈরি করে। তারা মার্কিন ইমিশেন পুলিশ আইসিই, সীমান্ত টহল বাহিনী এবং ইসরায়েলি সামিরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে। একজন হুইসেলব্লোয়ার জানিয়েছেন, গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পরেও কোম্পানিটি ইসরায়েলি বাহিনীকে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ক্রাই প্রিসিশন বর্তমানে নেভি ইয়ার্ডে তিনটি জায়গা লিজ নিয়ে রেখেছে, যেগুলো ২০১২, ২০১৯ এবং ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। জায়গাগুলোর আকার ৮ হাজার থেকে ৮৫ হাজার বর্গফুট, মেয়াদ পাঁচ থেকে ২০ বছর। ২০১২ সালের লিজে প্রথম বছরের পুরো ভাড়া মওকুফ করা হয়েছিল। এতে করে কোম্পানিটির সাশ্রয় হয়েছে কমপক্ষে ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
এরপর ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবাদে বাকি ১৯ বছরের ভাড়া থেকে আরও ১০ লাখ ডলারেরও বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে। কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ১০ লাখ ডলারের নির্মাণকাজও করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। ২০১৯ সালের লিজে প্রথম প্রান্তিকের ভাড়া মওকুফের ফলে সাশ্রয় হয় কমপক্ষে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪৪ ডলার।
বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে কারণ নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, যেখানে শহরের সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং শহরের ‘অভয়ারণ্য’ মর্যাদা পুনর্নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধেও সরব। নির্বাচনি প্রচারণায় এ নিয়ে তাকে রাজপথে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছিল।
অথচ তারই শহরের মালিকানাধীন ভবনে বসে একটি কোম্পানি সেই আইসিই এবং ইসরায়েলি বাহিনীর জন্যই অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি করে যাচ্ছে। আবার তার প্রশাসন কোম্পানিটিকে কোটি কোটি টাকার ভর্তুকিও দিচ্ছে। এই দ্বিচারিতা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মেয়রের কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
‘ডিমিলিটারাইজ ব্রুকলিন নেভি ইয়ার্ড’ নামের স্থানীয় সংগঠন ক্রাই প্রিসিশন ও আরেকটি সামরিক ঠিকাদার ইজি এরিয়ালকে ভবন থেকে উচ্ছেদের দাবিতে আন্দোলন করছে। ইজি এরিয়াল আইসিই ও ইসরায়েলি বাহিনীকে ড্রোন সরবরাহ করে। চাপের মুখে নেভি ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ইজি এরিয়ালের লিজ নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ক্রাই প্রিসিশনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটা লজ্জাজনক যে শহর তাদের ভর্তুকি দিচ্ছে, আর সেই ভাড়া করা জায়গায় বসে তারা আইসিই ও গণহত্যাকারী বাহিনীর জন্য অস্ত্র বানাচ্ছে।’