শিগগিরই বরখাস্ত হতে পারেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

মাত্র কয়েক মাস আগের তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয় অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তিনজন মন্ত্রিসভার সদস্য পদত্যাগ করেছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ মধ্যবর্তী নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, আরও পদত্যাগের গুঞ্জন ততই জোরালো হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তার মামলা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ থাকায় অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এপ্রিলে পদত্যাগ করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমকে মার্চ মাসে শিল্ড অব দ্য আমেরিকাসে বিশেষ দূত হিসেবে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে।
অসদাচরণের অভিযোগে শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-ডেরেমার পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নৌবাহিনীর মন্ত্রী জন ফেলানও পদত্যাগ করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে পলিটিকোর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগের তালিকায় আরও দুটি নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে। আর তারা হলেন কাশ প্যাটেল ও বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। প্যাটেল বিচার বিভাগের অধীনে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ফেডারেল তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, মদ্যপান ও মাদক সংশ্লিষ্ঠতার কারণে তরুণ বয়সে দুই বার গ্রেপ্তার হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় চলতি সপ্তাহে প্যাটেল অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। মিয়ামি-ডেড পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসে তার ব্যক্তিগত নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত ২০০৫ সালের একটি চিঠিতে প্যাটেল আইনের সঙ্গে তার দুটি পৃথক সংঘাতের বর্ণনা দিয়েছেন।
প্রথম ঘটনাটি ২০০১ সালের। সেসময় প্যাটেল ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ‘রিচমন্ড রাউডিস’ নামে একটি ছাত্র সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের একটি হোম বাস্কেটবল ম্যাচ দেখতে যান। প্যাটেলের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘অতিরিক্ত উল্লাস’ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তাকে সেখান থেকে বের করে দেন।
প্যাটেল লিখেছেন, অ্যারেনা থেকে বের হওয়ার পর কর্মকর্তা আমাকে জনসমক্ষে মাতাল থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেন। কারণ আমার বয়স তখনো ২১ বছর হয়নি।। তিনি আরও বলেন যে, তিনি মাত্র দুটি পানীয় গ্রহণ করেছিলেন। ফলে আরোপিত জরিমানা পরিশোধ করতে হয় তাকে। পরে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্যাটেল একটি লঘু অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছিল যখন প্যাটেল নিউইয়র্ক সিটিতে আইনের ছাত্র ছিলেন। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে স্থানীয় মদের বারগুলোতে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, আমরা কয়েকটি স্থানীয় বারে গিয়ে মদ্যপান করেছিলাম। বাড়ি ফেরার পথে আমরা মূত্রত্যাগের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তা করার আগেই পুলিশের একটি গাড়ি তাদের থামিয়ে প্রকাশ্য মূত্রত্যাগের জন্য আটক করে।
সবশেষে চিঠিতে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্যাটেল উল্লেখ করেন, কোনো ঘটনাই তার স্বাভাবিক আচরণের ফলে ঘটেনি।
২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা
গত সপ্তাহে দ্য আটলান্টিকে যে গুরুতর অভিযোগগুলো প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো হয়তো এতটা গুরুত্ব পেত না যদি আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো না থাকত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাটেলের মদ্যপানের অভ্যাস ও হঠাৎ হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তাকে কয়েকটি ক্লাবে মাতাল অবস্থায়ও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যা সরকারজুড়ে বারবার চিন্তার কারণ হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্যাটেল বলেন, আমি কর্মক্ষেত্রে কখনো মাতাল ছিলাম না, আর সে কারণেই আমরা ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করেছি। এবং আপনাদের মধ্যে যারা এতে অংশ নিতে চান, আসুন। আদালতে দেখা হবে।
ইতালি ভ্রমণ ও এফবিআইয়ের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
প্যাটেলের এফবিআই সম্পদ ব্যবহার নিয়েও আলাদা প্রশ্ন উঠেছে। তিনি এফবিআইয়ের বিমানে করে ইতালি গিয়েছিলেন, যেটিকে সংস্থাটি দীর্ঘ-পরিকল্পিত দাপ্তরিক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়াও সফরটি কাকতালীয়ভাবে শীতকালীন অলিম্পিকের আইস হকি টুর্নামেন্টের পদক পর্বের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে টিম ইউএসএ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল।
প্রায় এক বছর আগে পরিচালকের পদ গ্রহণের পর থেকে প্যাটেল তার বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে ন্যাশভিল ও অন্যান্য শহরে ভ্রমণ, বন্ধুদের সঙ্গে গলফ ক্লাবে যাওয়া এবং হকি ম্যাচে উপস্থিত থাকার কারণে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। বিরোধী আইনপ্রণেতারা ওইসব ভ্রমণের সময় ব্যুরোর সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেজন্য এফবিআইকে জবাবদিহি করতে বলেছেন।