logo

ওমান-পাকিস্তানের পর রাশিয়া, এবার আরাঘচির গন্তব্য কোথায়

ওমান-পাকিস্তানের পর রাশিয়া, এবার আরাঘচির গন্তব্য কোথায়

দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। সম্প্রতি পাকিস্তান, ওমান এবং রাশিয়া সফর শেষ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরান থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হওয়া আলোচনার ফলাফল উপস্থাপন করার কথা রয়েছে আরাঘচির।

মঙ্গালবার (২৮ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কৌশলগত গভীর অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখানে ওমান দীর্ঘকাল ধরে ইরানের বিভিন্ন সংকটে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে।

আরাঘচির তৃদেশীয় সফরকে গুরুত্বসহকারে দেখছে তেহরান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাঘচি আবারও ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্ববাসীকে তাদের উন্মুক্ত কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। তাদের কৌশলের মূল কারণ হলো, ইরানি কর্মকর্তারা বিশ্ববাসীকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, তারা যুদ্ধের বদলে কূটনীতিতে বিশ্বাসী। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা আলোচনার কোনো দরজা বন্ধ করেনি। 

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবের মতো বড় বড় অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি। একদিকে হরমুজ প্রণালিসহ অন্যান্য জটিল ইস্যুগুলোর সমাধান তারা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে করতে চায়। আপাতত কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সচল রাখাই ইরানের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়া সফর শেষে এক্স বার্তায় আরাঘচি রাশিয়ার সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান অস্থির সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে, তেহরান ও মস্কোর মধ্যকার বন্ধুত্ব কতটা গভীর এবং শক্তিশালী।

এক্স বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও রাশিয়ার এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দিন দিন আরও মজবুত হচ্ছে। কঠিন সময়ে রাশিয়ার পাশে থাকাকে ‘সংহতির বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখছে ইরান। সেই সঙ্গে সংকট সমাধানে এবং কূটনীতির পথে রাশিয়ার ইতিবাচক সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন এই ইরানি শীর্ষ কূটনীতিক।