logo

হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন, বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান

হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন, বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। আলজাজিরার খবর জানায়, শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বার্তায় নাগরিক ও প্রবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে।

তবে ঠিক কোন ধরনের হুমকির মুখে এই সাইরেন বাজানো হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি দেশটি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া এবং বিভিন্ন প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি হান্নাহ এলিস পিটারসেনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তা কেবল ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও জর্ডান তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে চালানো ইরানি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এসব দেশ মনে করে, এ ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা সরাসরি তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে গত বুধবার কুয়েত সরকার রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের নেতাদের হত্যার একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দাবি করেছে। এই অভিযানে ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা ইরানের শক্তিশালী প্রক্সি সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মদদপুষ্ট এই প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। বিশেষ করে জর্ডান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো যেকোনো সময় বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে বসতে পারে।