logo

সৌদিতে হুতির হামলা: নাগরিকদের জন্য একাধিক দেশের ভ্রমণ সতর্কতা জারি

সৌদিতে হুতির হামলা: নাগরিকদের জন্য একাধিক দেশের ভ্রমণ সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে (৮ অক্টোবর, ২০২৬)। ছবি: রয়টার্স

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দেশটিতে ভ্রমণের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পাঁচটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরবে ভ্রমণ না করার বিষয়ে নতুন সতর্কতা জারি করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ দেশটির নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নাগরিকদের রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জিজান ও আসির প্রদেশে কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে দেশটি।

রোববার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেয়। ইরান এবং ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার আশঙ্কাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কানাডার পররাষ্ট্রবিষয়ক বিভাগও সৌদি আরবের যেকোনো অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি কাজ ছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিকদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি যারা সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফর বাতিল করতে বলেছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেদ্দা ও দাম্মামে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া অন্য বিমানবন্দরগুলোতেও জরুরি কারণ ছাড়া যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

বিমানবন্দরে প্রাণহানি, আহত শতাধিক

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) তথ্য অনুযায়ী, রোববার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু আঘাত হানলে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

এর আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্ধ বিমানবন্দর, ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন

ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার জেদ্দা বিমানবন্দরে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩৭৪টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্বাধীন বিমান চলাচল বিশ্লেষক ও পরামর্শক ব্রেন্ডান সোবি বলেছেন, এই হামলার ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দীর্ঘমেয়াদি কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনই নির্ধারণ করা কঠিন।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে সৃষ্ট সংকটের মতোই এবারের পরিস্থিতির প্রভাব নির্ভর করবে সংকট কত দিন স্থায়ী হয়, রিয়াদ বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকে এবং পুনরায় চালুর পর কতটা ও কত দিন বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে—তার ওপর।

আকাশপথে নিরাপত্তাঝুঁকি ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো অনিশ্চিত।