logo

গাজায় হুইলচেয়ার-টয়লেট টিস্যু প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

রোয়া নিউজ
রোয়া নিউজ
গাজায় হুইলচেয়ার-টয়লেট টিস্যু প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা
ইসরায়েলি হামলায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর পা হারানো ফিলিস্তিনি শিশু ইমান আল-খোলি গাজার রাফাহতে হুইলচেয়ারে বসে আছে। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর বোমা হামলায় পঙ্গুত্ব বরণ করা ফিলিস্তিনিদের জন্য বিদেশি সহায়তার হুইলচেয়ার প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

একই সঙ্গে টয়লেট টিস্যু, তাঁবু নির্মাণে ব্যবহৃত ত্রিপল ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটকে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করে গাজায় এসব সামগ্রীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জর্ডানের আম্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্য রোয়া নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইসরায়েল হুইলচেয়ার, টয়লেট সিট, ত্রিপল ও বহনযোগ্য টয়লেটকে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ সামগ্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব সামগ্রীর গাজায় প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে তারা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল টর্চলাইট, বিদ্যুৎবিহীন হুইলচেয়ার, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ ও বহনযোগ্য টয়লেটসহ বিভিন্ন সামগ্রীকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে বলে দাবি ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা গিশার।

হুইলচেয়ার

যুদ্ধে আহত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলাচলের সহায়ক সরঞ্জামের চাহিদাও তীব্রভাবে বেড়েছে। ‘হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ নামের দাতব্য সংস্থার উদ্ধৃত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় জীবন পরিবর্তনকারী আঘাতপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। তাদের প্রতি চারজনের একজন শিশু।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংস্থাটি অনুমান করেছিল, গাজায় প্রায় ৩৩ হাজার সহায়ক পণ্য ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি চলাচল সহায়ক পণ্য বিতরণ করা হয়েছিল। এতে চিহ্নিত চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ হয়।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর জন্য কোনো পুনর্বাসন সরঞ্জাম প্রবেশ করেনি। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত পুনর্বাসন সামগ্রীর ১৮টি চালান ১৩০ থেকে ৫২০ দিন অপেক্ষার পরও ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ছিল।

ঘাটতিতে থাকা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং প্রাথমিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম। ইউএনআরডব্লিউএ ২০২৫ সালের আগস্টে জানিয়েছিল, গাজার ৮৩ শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে হুইলচেয়ার ও শ্রবণযন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম নেই।

টয়লেট

আলজাজিরার তথ্যমতে, গাজার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ৯০ শতাংশের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে বহনযোগ্য শৌচাগারের চাহিদা তীব্রভাবে বেড়েছে।

একটি ব্যবহৃত টয়লেট সিটের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার শেকেল, যা প্রায় ৬০০ ডলারের সমান। কিছু বাসিন্দা বালির ওপর রাখা প্লাস্টিকের চেয়ারে গর্ত করে ব্যবহার করছেন। আবার প্রায়ই ২০ বা ২৫ জনকে একটি সাধারণ শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গাজায় জরিপ করা জনগোষ্ঠীর মাত্র অর্ধেক মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা পায়। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দূষিত পানি বা মানববর্জ্যের ১০ মিটারের মধ্যে বসবাস করে।

দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেছেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে বারবার ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দেখা যায়। এর বেশির ভাগই তাঁবুর ভেতরের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।