মালয়েশিয়ায় ৩৭ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়াজুড়ে নথিবিহীন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে গত ৯ মাসে ৩৭ হাজার ৩ ১৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত ১০ হাজার ৩৭৪টি পৃথক অভিযানে তাদের আটক করে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময় মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৩ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ১ হাজার ৮০৯ জন নিয়োগকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জনই মালয়েশীয় নাগরিক। রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শুধু নথিবিহীন কর্মীদেরই নয়, বরং তাদের সুযোগ করে দেওয়া অসাধু নিয়োগকর্তা ও সিন্ডিকেটগুলোকেও এবার সমানভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সাইফুদ্দিন উল্লেখ করেন, অবৈধ অভিবাসী নিয়োগের দায়ে গ্রেপ্তার নিয়োগকর্তার সংখ্যা বিগত বছরগুলোতে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৪৬ জন। ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৮৫৯ জনে এবং ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ২০২ জনে। আর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই ১ হাজার ৮০৯ জন নিয়োগকর্তাকে আইন শৃঙ্খলার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর কিংবা হঠাৎ আলোচনায় আসার পর লোকদেখানো ‘মৌসুমি অভিযান’ চালানোর নীতি থেকে বের হয়ে এসেছে তার মন্ত্রণালয়। এখন থেকে প্রতিদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করে যাবে।
বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের বৈধ নিয়ম মেনে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই যেন অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়া হয়।
