logo

মালয়েশিয়ায় দুই ঘণ্টার অভিযানে ২৩ বাংলাদেশি আটক

দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
মালয়েশিয়ায় দুই ঘণ্টার অভিযানে ২৩ বাংলাদেশি আটক
মালয়েশিয়ার বাতু পাহাতে দুটি ইলেকট্রনিক্স কারখানায় অভিযানে আটক অভিবাসী কর্মীরা। ছবি: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জোহর রাজ্যের বাতু পাহাত শহরে দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ২৩ বাংলাদেশিসহ মোট ১৭৭ জন বিদেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময় বিদেশি কর্মীদের পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তিনজন মালয়েশীয় নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়।

আটক অভিবাসীদের মধ্যে ১১৬ জন নারী ও ৬১ জন পুরুষ। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেতিয়া ত্রোপিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন সূত্রের বরাতে জোহর রাজ্যের এই অভিযানে আটক অভিবাসীদের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তাতে ২৩ জন বাংলাদেশি পুরুষ ছাড়া মিয়ানমারের ১১৪ জন নারী ও ৩৫ জন পুরুষ, ইন্দোনেশিয়ার তিনজন পুরুষ এবং নেপালের দুজন নারী রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাতু পাহাতের দুটি পৃথক ইলেকট্রনিক্স কারখানায় অভিযানের সময় মিয়ানমারের কয়েকজন নারী শ্রমিক আটক হওয়ার পর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের দুশ্চিন্তা নিজেদের আটক হওয়া নিয়ে ছিল না, বরং দেশে থাকা পরিবারকে নিয়ে। কারণ পরিবারের সদস্যরা পুরোপুরি এই কর্মীদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

আটক মিয়ানমারের অনিয়মিত কর্মী দামিয়ানো নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় বাতু পাহাতের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করার পর মাত্র কয়েক দিন আগে এই কারখানায় যোগ দিয়েছিলাম। মিয়ানমারে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ভাই-বোনেরা আছে। এখন গ্রেপ্তার হওয়ায় তাদের কীভাবে টাকা পাঠাব, তা বুঝতে পারছি না।’

দামিয়ানো দাবি করেন, তার বাবা বাংলাদেশি ও মা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) একটি কার্ড দেখালেও সেটির আইনি বৈধতা নিয়ে সংশয় থাকায় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

আটক মাওয়ে নামের মিয়ানমারের আরেক নারী কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘চার বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কাজ করছি। নিজ দেশে কাজ পাওয়া অসম্ভব। পাসপোর্ট দিয়েই মালয়েশিয়ায় এসেছিলাম, কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট না পাওয়ায় অনিয়মিত হয়ে পড়ি।’

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বৈধ ভিসা ও কাজের অনুমতিপত্র ছাড়া অবস্থান করার অভিযোগে সব বিদেশি কর্মীকে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ধারায় আটক দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও কর্মসংস্থান দেওয়ার অপরাধে সংশ্লিষ্ট তিনজন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আইনটির ৫৬(১)(ডি) ধারায় জোর তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।