logo

নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার

নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে ঘিরে শুরু হয়েছে নাটকীয় তল্লাশি অভিযান। তাকে জীবিত অবস্থায় ধরিয়ে দিলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বড় অঙ্কের পুরস্কারের ।

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে একটি ইরানি টেলিভিশন চ্যানেল। খবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ঘোষণায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওই পাইলট বা ক্রুকে জীবিত ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন, তবে তাকে মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে এই তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলজুড়ে অনুসন্ধান চালাতে স্থানীয় জনগণকেও আহ্বান জানিয়েছে সরকার। পাশের চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সম্প্রচারিত বার্তায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে গুলি করার আহ্বানও জানানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

পুরস্কারের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অনেক মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সবাইকে সতর্ক করে বলেছে, ওই পাইলটের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের খারাপ আচরণ না করা হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু মানুষ ইতোমধ্যে তল্লাশি অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটির গভর্নর নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে ধরিয়ে দিলে প্রায় ৬৬ হাজার ১০০ ডলার পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ লাখ টাকার বেশি।

এদিকে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ-১৫ই মডেলের, যেখানে সাধারণত দুজন ক্রু থাকেন। তাদের একজনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান নিখোঁজ সেনার খোঁজে পাহাড়ি এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।

নিখোঁজ এই ক্রুকে ঘিরে এখন একদিকে চলছে সামরিক উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। পুরো ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।