ছোট্ট শিশুর আবদারে ইসরায়েলে গোলাপি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ছোট্ট শিশুর আবদারে ইসরায়েলে গোলাপি রঙের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালায় তেহরান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে গোলাপি রঙের একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়। এতে লেখা ছিল— ‘বিপ্লবী ছোট্ট মেয়েটির অনুরোধের জবাবে।’
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ইরানি ওই শিশু এক ভিডিওতে আইআরজিসিকে উদ্দেশ করে ইসরাইলে একটি গোলাপি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অনুরোধ জানায়। শিশুটির এই আহ্বানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তেল আবিব লক্ষ্য করে গোলাপি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আইআরজিসি।
ইসরাইলের হাইফার একটি আবাসিক ভবনে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরই এই ছবিটি সামনে আসে। ওই ঘটনায় ৪ ইসরাইলি নিহত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে তেহরান।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় বহু মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলেও ইরান ও তাদের ছায়া বাহিনী লেবাননের হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।
চলমান এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি দিন দিন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। এরপর ইরানে পরমাণু হামলার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
ইরানে পরমাণু হামলার বিষয়টি নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুসারে, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা নিয়ে জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যে পরমাণু হামলার কোনো ইঙ্গিত ছিল না ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।