লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: বাংলাদেশ দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ টাম্পা ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, জামিল লিমনের মরদেহ টাম্পার (সাউথ ফ্লোরিডা) ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আজ (স্থানীয় সময় মঙ্গলবার) হস্তান্তর করেছে পুলিশ। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট, বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সঙ্গে সমন্বয় করে ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মরদেহ হস্তান্তরের আগে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জামিল লিমনের পরিবারের সম্মতি নিয়েছে। মুসলিম রীতিতে মরদেহের পরবর্তী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন গোলাম মুর্তজা।
মরদেহ বাংলাদেশে ফোরার বিষয়ে তিনি বলেন, লিমনের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দু-একদিন সময় লাগতে পারে।
১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। প্রায় আট দিন ধরে নিখোঁজের পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে লিমনের মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিশাম আবুঘরবিয়াকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়েকটি কালো রঙের আবর্জনা ফেলার ব্যাগের মধ্যে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পায় স্থানীয় পুলিশ।
ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, লিমনের শরীরে অসংখ্য জখম ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হিশামের শরীরেও পায়ের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্তকারীরা লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে বসার ঘর থেকে বেডরুম পর্যন্ত অনেকগুলো রক্তের দাগ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি বেডরুমে মেঝেতেও রক্তের ছোপ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত রক্তের ফরেনসিক পরীক্ষায় লিমন ও বৃষ্টি উভয়ের ডিএনএ পাওয়া গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, তিনি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় হিশামের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃতদেহ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। টামপা এলাকার আরেকটি জলাশয় থেকে রোববার (২৬ এপ্রিল) আরও কিছু দেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। তাবে তা বৃষ্টির কিনা তা এখনও নিশ্চিত করেনি স্থানীয় প্রশাসন।