logo

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের

এএফপি
এএফপি
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের
উত্তর কোরিয়ার অজ্ঞাত স্থানে দেশটির নেতা কিম জং উন ও তার মেয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার একটি পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন। ছবি: কেসিএনএ

উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। পিয়ংইয়ংয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডারদের সম্মেলনে এই নির্দেশ দেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ। এ ছাড়া নতুন একটি সেতু দিয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে উত্তর কোরিয়ার এই নেতার পৌছানোর খবর জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্মেলনে কিম ‘কোরীয় ধাঁচের সামরিক বিপ্লবের’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিকে সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে শক্তিশালী, দক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কেসিএনএর মতে, ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের পর এই প্রথম পুরো সেনাবাহিনীকে নিয়ে এমন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। ওই কংগ্রেসে কিম প্রচলিত সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ধরনের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা এবং একটি মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির দাবি, অস্ত্র দুটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা নিজেদের আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দেশটির সরকার বারবার জানিয়েছে, তাদের স্থায়ী পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এবং এ অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কিম জং উন চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছে থাকতে পারেন। নতুন নির্মিত নিউ ইয়ালু নদী সেতু দিয়ে তিনি চীনে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সরকারি সূত্র বার্তা সংস্থাটিকে জানায়, কিম ওই সেতু দিয়ে দানদংয়ে পৌঁছেছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সূত্রটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পরে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপও অজ্ঞাতনামা সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, দিনের শুরুতে কিম নতুন সেতু দিয়ে চীনে প্রবেশ করেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে এএফপি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চার লেনের নিউ ইয়ালু নদী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ২০১৪ সালে। তবে উত্তর কোরিয়ার অংশে সংযোগ সড়ক ও শুল্কসংক্রান্ত অবকাঠামোর অভাবে এটি চালু হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। প্রায় ১২ বছর পর, গত সপ্তাহে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়।

উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটির জন্য বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তার উৎস।

কিমের সম্ভাব্য এ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সোমবার বেইজিংয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।