ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নিহত ৪, আহত ৩

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলায় চারজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুতি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের উত্তর সীমান্তে সৌদি আরবের সংলগ্ন আল-জাওফের একটি এলাকায় টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোতে হামলা চালায়। স্থানীয় একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় কর্মরত ‘চার শ্রমিক’ এ হামলায় নিহত হন।
হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হতাহতের তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এসব হামলার খবর এলো।
রোববার এর আগে হুতিরা দাবি করে, আগের ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান আল-জাওফ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ এবং তেলসমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে মোট ২৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনেও রোববার তীব্র লড়াই অব্যাহত ছিল। হুতিরা ১০ সেপ্টেম্বর লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোকা দখলের পরদিন দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির ধুবাব ও মায়ুন দ্বীপ দখল করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের দিকে হুতিদের আরও অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী এখন পার্বত্য এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ইয়েমেনের সংঘাত শুরু হয় ২০১৪ সালের শেষ দিকে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। সাম্প্রতিক হুতি অগ্রযাত্রাকে ওই যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
