১৬ বছরের আরবান যুগের অবসান, হাঙ্গেরির ক্ষমতায় পিটার ম্যাগিয়ার

দীর্ঘ ১৬ বছরের একচ্ছত্র শাসনের পর হাঙ্গেরির ক্ষমতা থেকে বিদায় নিচ্ছেন ভিক্টর আরবান। রোববার (১২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত দেগশটির সংসদ নির্বাচনে পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টির কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছে আরবানের রক্ষণশীল দল ফিদেজ পার্টি।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির ইতিহাসে রেকর্ড ৭৭ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি এবং ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ম্যাগিয়ার।
সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ১৯৯ আসনের সংসদে ম্যাগিয়ারের দল একাই ১৩৮টি আসন জিতে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ম্যাগিয়ার।
অন্যদিকে অরবানের দল মাত্র ৫৫টি আসনে গুটিয়ে গেছে। পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে অরবান বিজয়ী ম্যাগিয়ারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজধানী বুদাপেস্টে দানিউব নদীর পাড়ে সমবেত হাজার হাজার উচ্ছ্বসিত জনতার উদ্দেশে পিটার ম্যাগিয়ার বিজয়ী ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আজ রাতে মিথ্যার ওপর সত্যের জয় হয়েছে। হাঙ্গেরীয়রা বিভাজনের রাজনীতির বদলে দেশ গড়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরবানের দীর্ঘ শাসনের অবসানে পুরো বুদাপেস্ট শহর এখন উৎসবে মাতোয়ারা।
ইইউ এবং ইউক্রেন যুদ্ধে প্রভাব
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আরবানের পতন কেবল হাঙ্গেরিতে প্রভাব রাখবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় পরিবর্তনেও বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ম্যাগিয়ারের উত্থান।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন ভিক্টর আরবান। এমনকি ইউক্রেনের জন্য ইইউর আর্থিক সহায়তা আটকে রেখেছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বে হাঙ্গেরি এখন পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং ইউক্রেনের জন্য আটকে থাকা ১০৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ছাড়ের পথ সহজ হবে।
এই ফলাফল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা) সমর্থনকারীদের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হাঙ্গেরি সফর করে অরবানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। কিন্তু হাঙ্গেরির জনগণ অরবানের ‘যুদ্ধ বনাম শান্তির’ প্রোপাগান্ডাকে প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
জয়ের পর অবশ্য তিসজার জন্য বড় চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। তা হলো, দেশের বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা এবং অরবানের আমলের দুর্নীতি নির্মূল করা। তবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ম্যাগিয়ারের পক্ষে হাঙ্গেরির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।