logo

শান্তিচুক্তির আশায় কমলো তেলের দাম, এশিয়ার বাজারে সুবাতাস

শান্তিচুক্তির আশায় কমলো তেলের দাম, এশিয়ার বাজারে সুবাতাস
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তিচুক্তির অগ্রগতি হওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। একইসঙ্গে এ খবরে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

চুক্তি অনেকাংশে চূড়ান্ত হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরপর মূলত জ্বালানির বাজারে এ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত শনিবার ট্রাম্প জানান, এ চুক্তি দ্রুতই সফলতার মুখ দেখবে। তবে এই ঘোষণার মাত্র একদিন পর ট্রাম্প সুর বদলেছেন বরে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাকারীদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৫ মে) সকালে এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে বিশ্ববাজারে তেলের দামের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৩৬ ডলারে নেমে আসে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সম্ভাব্য চুক্তির একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

হরমুজ শিগগিরই খুলে দেওয়া হতে পারে—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন আশা তৈরি হওয়ায় জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিক্কেই ২২৫ ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সূচকটি ৬৫ হাজার পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। জাপানের মতো প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াও এই যুদ্ধের কারণে তীব্র সংকটে পড়ে। কারণ এই দুটি দেশই তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

তবে সোমবার সরকারি ছুটি থাকার কারণে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি এবং আর্থিক বাজারগুলোর লেনদেন বন্ধ রয়েছে।

গত শনিবার এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার খুব ভালো ফোনালাপ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত সম্মতির সাপেক্ষে চুক্তির বেশিরভাগ অংশই ঠিক করা হয়ে গেছে। বর্তমানে চুক্তির শেষ মুহূর্তের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগির তা বিশ্ববাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। একই দিন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। ওই আলোচনাও খুব সফল ছিল বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।