logo
Advertisement

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক শেষ, হলো না সংবাদ সম্মেলন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক শেষ, হলো না সংবাদ সম্মেলন
দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

অমীমাংসিত ইস্যুর মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লিতে শেষ হলো চার দিনব্যাপী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক। তবে বৈঠক শেষে নিয়ম অনুযায়ী দুই বাহিনীর প্রধানদের যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল, তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি আলোচনার যৌথ খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের পরও কোনো পক্ষ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সম্মেলনসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি।

Advertisement

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক সময়ের সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দুই দেশের জন্য এবারের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে সরকারে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে মে মাসের শুরুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই প্রথম সীমান্ত বৈঠক।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিল্লির লোধি রোডে বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের শীর্ষ বৈঠকটি ছিল দুই বাহিনীর ৫৭তম দ্বিপক্ষীয় সম্মেলন। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিজিবি প্রতিনিধিদল ভারতের রাজধানীতে পৌঁছায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর প্রতিনিধিদলটি দেশে ফিরে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশ দলের পক্ষে বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় দলের পক্ষে বিএসএফ ডিজি প্রবীণ কুমার নেতৃত্ব দেন।

এর আগে গত ৩ জুন বিএসএফ জানিয়েছিল, বৈঠকে তাদের মূল এজেন্ডা ছিল বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বারা বিএসএফ জওয়ান ও সাধারণ ভারতীয়দের ওপর হামলা বন্ধ করা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও অপরাধীদের ভারতে প্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্ত বেড়া কাটা ও নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতা দূর করা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের জানান, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন (অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা) এবং সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধান এজেন্ডা।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার অংশই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এরই মধ্যে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকা এখনও বেড়াবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৪ দশমিক ৫১ কিলোমিটার ভৌগোলিক কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত ফাঁকা জায়গা।

এর আগে, ২০২৫ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকায় দুই দেশের সীমান্ত প্রধানরা বৈঠকে বসেছিলেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটি বছরে একবার হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুবার করার নিয়ম চালু হয়। এর ফলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে দিল্লি ও ঢাকায় এই বৈঠক আয়োজন করে আসছেন।