logo
Advertisement

ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদ করে শাস্তির মুখোমুখি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা

নিউইয়র্ক টাইমস
নিউইয়র্ক টাইমস
ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদ করে শাস্তির মুখোমুখি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা
মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসনকে চলতি বছরের শুরুর দিকে ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি তোলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশটির বিমানবাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসন। তবে নিজের এই সরকারবিরোধী অবস্থানের জন্য যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সামরিক আইন অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান (প্রেসিডেন্ট) কিংবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘অসামান্য অসন্তোষ প্রকাশ’ বা ‘মর্যাদাহানিকর বক্তব্য’ দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধে চাকরিচ্যুতি, বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং কয়েক মাসের কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মেজর ওয়াটসন বলেন, ‘আমি যদি নিজেকে বড় কোনো ঝুঁকিতে না ফেলি, তবে এই প্রতিবাদ কেবল সাধারণ এক চিৎকার হিসেবেই থেকে যাবে। নিজের প্রতিবাদের জন্য সবচেয়ে বড় কী মূল্য আমি দিতে পারি দিনশেষে এই সিদ্ধান্তেই আমি পৌঁছেছি।’

সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধকে আমেরিকার একটি ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ওয়াটসন। এমনকি পেন্টাগনের এই সামরিক পদক্ষেপকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।

মন্ত্রিসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চরম আপত্তি ও পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প এই যুদ্ধ ‘বেছে নিয়েছেন’ উল্লেখ করে তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মূল দায়িত্ব যে সংবিধানের প্রতি, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্যান্য আমেরিকানদেরও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবাদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকার বর্তমান সরকারকে প্রত্যাখ্যান করতে এবং সোচ্চার হতে আপনার বিশেষ কোনো ক্ষমতার প্রয়োজন নেই।’

বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি; বরং তারা বিমানবাহিনীর দিকে বল ঠেলে দিয়েছে। তবে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তারাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে গত জুলাই মাসে মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের সামনে থেকে মেজর ওয়াটসনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ট্রাম্পকে অভিশংসন, দণ্ড প্রদান ও পদচ্যুত করার দাবিতে কাজ করা আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘রিমুভাল কোয়ালিশন’-এর আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

টেক্সাসের ডেমোক্রেট প্রতিনিধি আল গ্রিন উপস্থিত থাকা ওই সংবাদ সম্মেলন শেষে জেসন ওয়াটসন ক্যাপিটলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবিসম্বলিত পোস্টার প্রদর্শন করেন। এর পরপরই ক্যাপিটলের সিঁড়িতে বেআইনিভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অভিযোগে মার্কিন ক্যাপিটল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বিমানবাহিনী তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। গ্রেপ্তারের পরপরই মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় ই. মেইঙ্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মেজর ওয়াটসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামরিক বাহিনীর অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন যেকোনো নিয়মভঙ্গকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রতিবাদ করেননি উল্লেখ করে মেজর ওয়াটসন স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যও নন।

উল্লেখ্য, মার্কিন সামরিক আইনের (ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিস) ৮৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস, বেসামরিক সামরিক প্রধান, কোনো রাজ্যের গভর্নর বা আইনসভার বিরুদ্ধে মর্যাদাহানিকর বক্তব্য দিলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ।

এছাড়া ১৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যহীনতা বা অসন্তোষ উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেনাসদস্যদের করা কোনো বক্তব্য আইনত কঠোর শাস্তির যোগ্য।