logo

সিরিয়ার কাসরাক ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার কাসরাক ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাসরাক সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও সরঞ্জাম প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রত্যাহার করা বাহিনীর একটি অংশ উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে পুনঃমোতায়েন করা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) হাসাকা শহরের কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটি থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, সাঁজোয়া যান ও সেনা বহনকারী ট্রাক উত্তর ইরাকের দিকে যেতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, উচ্চপ্রযুক্তির সংবেদনশীল সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অন্তত জানুয়ারি থেকেই সিরিয়া থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছিল।

আল-জাজিরা আরবি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে হাসাকার দক্ষিণে আল-শাদ্দাদি ঘাঁটি ও দেইর আজ জোর প্রদেশের আল-ওমর তেলক্ষেত্র থেকে সেনা এবং সরঞ্জাম সরানো হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আল-শাদ্দাদি ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।

কয়েক মাস ধরেই সিরিয়ায় মার্কিন সেনা সংখ্যা কমছে। জুলাই মাসে যেখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সেনা ছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৯০০ জনে। কাসরাক থেকে পুরোপুরি সরে গেলেও ইরাকি সীমান্তের কাছে মের্লানে একটি মার্কিন ঘাঁটি বহাল থাকবে।

এদিকে মার্কিন প্রশিক্ষিত কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ) একসময় উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। তবে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এলাকা হারানোর পর তারা সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে একীভূত হওয়ার একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির আওতায়, ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের কাছে আল-তানফ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণও সিরিয়ার সেনাবাহিনী নিয়েছে।

এসডিএফ ছিল ওয়াশিংটনের প্রধান সিরিয়ান মিত্র এবং আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসে। ফলে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর গুরুত্ব কিছুটা কমে গেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

— Clash Report (@clashreport) February 23, 2026