ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় ‘আশার আলো’ দেখছে চীন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টায় ‘আশার আলো’ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। যদিও তেহরান এখনও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল, তবুও আলোচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে চীন।
দ্য স্ট্রেইটসম টাইমসের খবর জানায়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে ফেরার সংকেত দিচ্ছে।
এর আগে গত ২৫ মার্চ মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং ই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই আলোচনার আগ্রহ দেখানোয় শান্তির একটি ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছে।’
চীনের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। এই মুহূর্তে আলোচনার কথা বলা মানে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া।’
এদিকে হোয়াইট হাউস হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরান যদি শান্তি পরিকল্পনা মেনে না নেয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে নরক নামিয়ে আনতে প্রস্তুত। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে কোনো আলোচনায় বসবে না।
এদিকে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আসলে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তবে ইরানি মধ্যস্থতাকারীরা নিজেদের দেশের মানুষের হাতে প্রাণ হারানোর ভয়ে এই আলোচনার কথা গোপন রাখছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আলোচনা করছে এবং একটি চুক্তি করতে মুখিয়ে আছে। কিন্তু তারা সেটি বলতে ভয় পাচ্ছে।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামাতে তারা ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কেবল প্রাণহানিই বাড়বে না বরং সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।’