৪৭ বছর পর মুখোমুখি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রতিনিধিরা

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমাবরের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। এটা দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন। কারণ এবারই প্রথম সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা চলছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানি ঊর্ধ্বতন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার আগে জানানো হয়, এই বৈঠকটি বরাবরের মতোই পরোক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা আলাদা আলাদা কক্ষে অবস্থান করবেন। আর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকরা তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন। তবে শনিবার একটি নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে।
বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষই সরাসরি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জানায়, প্রায় ৪৭ বছর পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করছেন। প্রতিনিধিদলগুলো একদিনের জন্য ইসলামাবাদে অবস্থান করবেন। কিন্তু নিম্ন পর্যায়ের আলোচনা অর্থাৎ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে মুখোমুখি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার উপস্থিত রয়েছেন। ইরানের পক্ষে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সূত্রটি আরও জানায়, মার্কিন পক্ষ ইরানি পক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
ইরানের একাধিক বিশেষজ্ঞ-পর্যায়ের কমিটিও ইসলামাবাদে উপস্থিত রয়েছে। কূটনীতিকদের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, কূটনীতি সবচেয়ে ভালোভাবে হয় রুদ্ধদ্বার কক্ষে। তারা (আলোচকরা) বেরিয়ে আসর পর কী ঘটেছিল বিস্তারিত জানানো যাবে।
এদিকে বিশ্লেষকদের বরাতে সিএনএন বলেছে, যদি আলোচনাটি সরাসরি হয় তাহলে এটি ১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি কূটনৈতিক বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হবে।