পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৪৮ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ কাল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট গ্রহণ বুধবার (২৯ এপ্রিল)। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। শেষ দফার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা ১৪৪৮, যেখানে নারী প্রার্থী ২২০ জন। এই দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভাগ্যনির্ধারণ হবে প্রার্থীদের।
ভোটগ্রহণের আগে নির্বাচন কর্মীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে ইভিএম ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলো থেকে নির্বাচন কর্মীরা ইভিএম মেশিন ও ভোট পরিচালনা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ বুথে রওনা দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তায়।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের শেষ দফা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই পর্বে রাজ্যটির ৭ জেলার মধ্যে রয়েছে নদিয়া (১৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১), কলকাতা (১১), হাওড়া (১৬), হুগলি (১৮) ও পূর্ব বর্ধমান (১৬)।
এবারের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সমর্থনে শাসক দলের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক সেলিব্রিটি প্রার্থীরা যেমন আছেন, তেমনি প্রধান বিরোধী দল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীসহ একাধিক বিধায়ক ও সমাজের বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৩ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৭ জন ভোটার এই দফায় তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার এর কিছু বেশি। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৭৯২জন। দ্বিতীয় দফার মোট শতায়ু ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৩ জন ৷
দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের মোট বুথের সংখ্যা ৪১ হাজার একটি। এর মধ্যে প্রধান বুথ ৩৯ হাজার ৩০১টি। সহায়ক বুথ প্রায় ১৭০০। এরমধ্যে মডেল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র আছে ২৯৮টি।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ তৎপরতা দেখা গেছে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বুথ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশনও। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোট ২ হাজার ৩৪৮ বিশেষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তর চব্বিশ পরগনায় (৫০৭), দক্ষিণ ২৪ পরগনায় (৪০৯)। এ ছাড়াও কলকাতায় ২৭৩, ব্যারাকপুরে ১৬০, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৪, বারুইপুরে ১৬১, পূর্ব বর্ধমানে ২৬০ এবং বনগাঁয় ৬২ বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন থাকছে ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম। প্রতিটি বুথে কমপক্ষে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। যেখানে তিনটি বুথ সেখানে থাকবে এক সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী, পাঁচটি বুথ হলে সেখানে থাকবে দুই সেকশন।
পাশাপাশি থাকছেন ১৪২ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ১০০ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক।
পর্যবেক্ষক ও ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী রাজ্য পুলিশের সদস্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জগদ্দল বিধানসভার অন্তর্গত জগদ্দল থানার সামনে রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে বিজেপি এবং তৃণমূলের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে, তাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছুড়ে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর একজন আহত হয় বলে জানা যায়। ওই ঘটনায় তৃণমূলের চার কর্মীসমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালের দিকে আরামবাগ লোকসভার তৃণমূলের কংগ্রেসের সাংসদ মিতালীবাগের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে। গুরুতর আহত হন সাংসদ। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পড়ে।