ওমান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাধীন তেল ট্যাংকারে হামলা

ওমানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ মার্চ) দেশটির মুসানদাম উপদ্বীপের কাছে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘স্কাইলাইট’ নামের জাহাজটিতে হামলা হয়। এতে চারজন নাবিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার।
রয়টার্স জানায়, হামলার পর জাহাজটিতে থাকা ২০ জন নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় ও ৫ জন ইরানি নাগরিক। তবে জাহাজটিতে কী দিয়ে হামলা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে হরমুজ প্রণালিতে, মুসানদামের খাসাব বন্দরের প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল উত্তরে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এর আগে একই দিনে আরব সাগরসংলগ্ন দুকম বাণিজ্যিক বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। এতে একজন প্রবাসী শ্রমিক আহত হন। আরেকটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি ট্যাংকের কাছে পড়েছে, তবে তাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে উদ্ভূত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের ভেতরে বা আশপাশে এ ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে এটিই প্রথম হামলা।
তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কাইলাইট’ জাহাজটির মালিক সি ফোর্স ইনকরপোরেশন এবং এটি পরিচালনা করে রেড সি শিপ ম্যানেজমেন্ট এলএলসি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কোম্পানি ও জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি তেল পরিবহনে একটি গোপন বহর পরিচালনা করছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, স্কাইলাইট একটি ছোট ট্যাংকার, যা সাধারণত অন্য জাহাজে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি মুসানদাম এলাকায় নোঙর করে ছিল।