নোবেল পাইনি, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধ্য নই : ট্রাম্প

দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর বিশ্বের বেশ কয়েকটি যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেন তিনি। এ জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুরস্কারটি। সেই ক্ষোভ কুরে কুরে খাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। এবার সেই ঝাঁজ ঝাড়লেন তিনি।
ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত সুবৃহৎ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার ঘোষণা অনেক আগেই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিছুদিন এ নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। তবে সম্প্রতি এ নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন ট্রাম্প। ইউরোপের দেশগুলো এই হম্বিতম্বির বাধ সাধতেই চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আটটি দেশের ওপর দিয়েছেন শুল্কাদেশ, যা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের এই রুদ্রমূর্তির কারণ হিসেবে নোবেল না পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নরওয়ের গণমাধ্যম ভিজি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নোবেল না পাওয়ার কারণেই ট্রাম্পের এই রুদ্রমূর্তি দেখছে বিশ্ব। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিও দিয়েছিলেন।
ভিজির বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিস্ময়কর ওই চিঠিতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের কথাও বলেছিলেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভিজির হাতে আসা ওই চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার পর তিনি আর ‘শুধু শান্তির কথা’ ভাববেন না।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্প লেখেন, ‘আপনাদের দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আটটি যুদ্ধসহ আরও অনেক কিছু থামানোর জন্য আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবে না। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমি আর নিজেকে কেবল শান্তির জন্য ভাবতে বাধ্য মনে করি না।’ এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কী ভালো এবং কী উপযুক্ত’ তা নিয়ে ভাবতে পারেন।
গণমাধ্যমটিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জানান, চিঠিটি এসেছে তার পক্ষ থেকে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত বার্তার জবাবে। তবে ঠিক কবে এই জবাব এসেছে, তা জানাননি তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠকে বসেন। ওয়াশিংটনের এই ভূখণ্ড দখলের চাপকে কেন্দ্র করে ট্রান্সআটলান্টিক উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকায় তারা পাল্টা শুল্ক ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করেন।
স্টোরেকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ডেনমার্ক রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে ‘রক্ষা করতে’ পারে না। তাদের আদৌ ‘মালিকানার অধিকার’ কেন থাকবে? কোনো লিখিত নথি নেই। শুধু কয়েকশ বছর আগে সেখানে একটি নৌকা ভিড়েছিল, এইটুকুই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি অন্য যে কারও চেয়ে ন্যাটোর জন্য বেশি কাজ করেছেন। তাই এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা। তিনি লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।