logo

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে ২ ধাপের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে ২ ধাপের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই ধাপের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এর আগে মধ্যস্থতাকারীরা ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। পরবর্তীতে এই ধাপের ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে যাওয়ার পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের।  

সোমবার (৬ এপ্রিল) অ্যাক্সিওসের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফার্স্ট পোস্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো স্বীকার করেছে, শেষ দুই দিনের মধ্যে এই ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানোর একমাত্র সুযোগ হিসেবে দেখছেন তারা। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে তার শর্ত মেনে নেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বা আলটিমেটাম দিয়েছেন। 

গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে শর্ত না মানলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দিয়ে দেশটিতে ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে। 

এদিকে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর তেল-গ্যাস ক্ষেত্র এবং পানি শোধনাগারগুলোতে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। 

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘছি ইতোমধ্যে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার অভাব তীব্র, তাদের কেউ আপস করতে রাজি হচ্ছেন না। ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানের পক্ষ থেকে ‘বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ’ চাইছে, তখন ইরান আশঙ্কা করছে, তারা গাজার মতো কোনো ফাঁদে পা দিচ্ছে কি না। কারণ তারা কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে জোর দিচ্ছেন। 

যে দুই বিষয় মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবে গুরুত্ব পাচ্ছে

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০ শতাংশ) কমিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৩-৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। 

তবে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় এই স্বল্প সময়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কবলে পড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।