logo

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র তেল-সম্পর্কিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির খবর জানায়, সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব।’ তবে তিনি বলেননি কোন নিষেধাজ্ঞা বা কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তারপর, কে জানে? হয়তো আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না—এতটাই শান্তি বজায় থাকবে।’

একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ একটি ফোনালাপ করেছেন।

এর আগে বিশ্ব তেলের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্প্রতি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে ভারতের তেল শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। 

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে জিম্মি করার অপচেষ্টা রুখতেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এই ছাড় রাশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে না। এটি সচেতনভাবে নেওয়া একটি অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা। এটি শুধু সমুদ্রে জাহাজে বোঝাই অবস্থায় আটকা পড়া তেলের লেনদেনের জন্য প্রযোজ্য হবে।’

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ মার্চ এক বিবৃতিতে জানান, প্রয়োজনে আমেরিকান নৌবাহিনী রণতরি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করে দেবে। এমনকি বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে এর ওপর এশীয় দেশগুলোর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি। যেখানে আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলো এই পথের ওপর মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ভরশীল, সেখানে চীনের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ আসে এই পথ দিয়ে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই হার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ছাড় ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।