logo

ইরান আরব দেশগুলোয় হামলা করায় বিস্মিত ট্রাম্প

ইরান আরব দেশগুলোয় হামলা করায় বিস্মিত ট্রাম্প

ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা করায় বিস্মিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ মার্চ) সিএনএনকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লেগেছে, কারণ তারা বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরব দেশগুলোর ওপর হামলা করেছে।’

সাক্ষাৎকারে সিএনএনের সাংবাদিক জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (আরব দেশগুলো) বলেছিলাম, আমরা বিষয়টি সামলাচ্ছি। তবে এখন তারা লড়াই করতে চায়। এখানে তাদের জড়ানোর কথা ছিল না, কিন্তু এখন তারা জোরালোভাবে এই যুদ্ধে যুক্ত হতে চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘ইরানিরা একটি হোটেলে গুলি চালিয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গুলি চালিয়েছে। এতে তারা (আরব দেশগুলো) ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা আমাদের পছন্দ করে, তবে তারা পর্যবেক্ষণ করছিল। তাদের জড়িত হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।’

সিএনএনের সঙ্গে নয় মিনিটের সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানকে ভালোভাবেই ধোলাই দিচ্ছে। আমার মনে হয় সবকিছু খুব ভালোই এগোচ্ছে। আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সামরিক বাহিনী আছে এবং আমরা সেটি ব্যবহার করছি। তবে আমরা এখনো কঠোর আঘাত শুরু করিনি। বড় ঢেউ এখনো আসেনি। খুব শিগগিরই সেটি আসছে।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন যার মধ্যে ছিল সংঘাত কতদিন চলতে পারে এবং দেশটির সম্ভাব্য উত্তরাধিকার পরিকল্পনা।
যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হতে পারে—এ প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চাই না এটা খুব বেশি দিন চলুক। আমি ভেবেছিলাম চার সপ্তাহ লাগবে। তবে আমরা সময়ের চেয়ে একটু এগিয়ে আছি।’
যুক্তরাষ্ট্র কি সামরিক হামলার বাইরে গিয়ে ইরানি জনগণকে তাদের শাসনব্যবস্থা থেকে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ। আমরা করছি। তবে এখন আমরা চাই সবাই ঘরের ভেতরে থাকুক। বাইরে নিরাপদ নয়। পরিস্থিতি আরও অনিরাপদ হতে যাচ্ছে।’
ইরানের নেতৃত্বে কে আসতে পারেন—এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানি না নেতৃত্বে কে আছে। তারা কাকে বেছে নেবে, তাও জানি না। হয়তো তারা ভাগ্যবান হলে এমন কাউকে পাবে, যে জানে সে কী করছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক হামলার কারণে ইরানের নেতৃত্বে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি ছিল অসাধারণ এক হামলা। এক জায়গায় একত্রিত হয়ে বৈঠক করা—তারা একটু অহংকারী হয়ে পড়েছিল। তারা ভেবেছিল তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তারা অদৃশ্য ছিল না। আমরা এতে বিস্মিত হয়েছিলাম।’
বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে কে আছেন, তা স্পষ্ট নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা নিজেরাই এখন জানে না কে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা ৪৯ জন ইরানি নেতাকে সরিয়ে দিয়েছি। ওরাই ছিল নেতৃত্ব এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিবেচনায় আনা হচ্ছিল। কিন্তু চার ডজনের বেশি নিহত হওয়ায়, আমরা জানি না এখন দেশটি কে চালাচ্ছে। তারাও জানে না। বিষয়টি কিছুটা বেকারদের লাইনের মতো।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারিনি। প্রতিটি নতুন প্রস্তাবের পর তারা আগের প্রস্তাব থেকে সরে আসত। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়নি। তাদের কাছে প্রচুর সমৃদ্ধ উপাদান ছিল। তারা সেটি আবার ব্যবহারের কথা ভাবছিল, কিন্তু জায়গাটি এত খারাপ অবস্থায় ছিল যে, পাহাড়টাই প্রায় ধসে পড়েছিল।’
নিজের সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটাই উপায় ইরানের সঙ্গে মোকাবিলা করার।’
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞে ইরানের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘৩৭ বছর, ৪৭ বছর, ৫০ বছর পেছনে যান—দেখুন কী হয়েছে এবং কত মৃত্যু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মানুষ হাত-পা হারিয়ে ঘুরছে, মুখ বিকৃত হয়ে গেছে।’
ট্রাম্প বলেন, তিনি তার দলকে গত ৪৭ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরান বা ইরান-সমর্থিত সব হামলার তালিকা দিতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, সব হামলার তালিকা দাও। আমি যদি সব বলতাম, এখনো বলে যেতাম।’
সর্বশেষ সামরিক অভিযানটি ইরানি হুমকি নির্মূলের দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানি মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে সোলাইমানিকে সরিয়েছিলাম। সে ছিল অবিশ্বাস্য রকমের সহিংস ও নিষ্ঠুর জেনারেল।’
এরপর জুন ২০২৫-এ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিডনাইট হ্যামার’ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া থেকে মাত্র এক মাস দূরে ছিল।’
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ছিল ইরান পারমাণবিক চুক্তি, কারণ এতে সব ক্ষমতা ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। তারা তিন বা চার বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত। তারা তা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করত। হয়তো আমাদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করত।’