logo

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আস্থা নেই, শান্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আস্থা নেই, শান্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে এখন আর কোনো আস্থা নেই।  এ কারণে শান্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই দেশের মধ্যে আস্থার জায়গা এখন শূন্যের কোঠায়। যদি কোনো আলোচনা শুরুও হয়, তবে সেখান থেকে বড় কোনো অর্জনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

আট দিন আগে ইসলামাবাদে যে সামান্য আশার আলো দেখা গিয়েছিল, তা এখন স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারস্য উপসাগরীয় সব বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মার্কিন বাহিনী ‘এমভি তুসকা’ নামক ইরানি পতাকাবাহী একটি জাহাজকে অবরোধ ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে গুলিবর্ষণ ও বাজেয়াপ্ত করে। ইরান এই ঘটনাকে ‘সামুদ্রিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে তিনি তেহরানকে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত মার্কিন দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য করতে চান। যদিও কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন এই কৌশল কার্যকর হতে পারে, তবে ইতিহাস বলে ইরান সাধারণত এ ধরনের প্রকাশ্য চাপের মুখে নতিস্বীকার করে না।

চাপের মুখে নতিস্বীকারের পরিবর্তে ইরান তাদের অবস্থান আরও কঠোর করছে। দেশটি এখন হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, বর্তমান যুদ্ধংদেহী পরিবেশে কোনো সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছানো বা চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের কোনো অনুকূল পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না।