Advertisement

হাইপারসনিক মিসাইল ঠেকানোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই যুক্তরাষ্ট্রের

এশিয়া পোস্ট নিউজ
হাইপারসনিক মিসাইল ঠেকানোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলা আর ইসরায়েলের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা দেখা গেছে। একটি হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সফলতা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা- এ দুই প্রশ্ন যখন আলোচনায় তখন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর। পেন্টাগন স্বীকার করেছে তাদের কাছে হাইপারসনিক মিসাইল তথা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। 

Advertisement

গতকাল সোমবার সিনেটের এক শুনানিতে পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মার্ক বারকোভিটজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা উন্নত মানের ক্রুজ মিসাইল ঠেকানোর মতো কোনো সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন চীন ও রাশিয়ার দিকে। ইরান যুদ্ধে তাদের বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হলেও এই দুই দেশকে ‘প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে বিবেচনা করছে পেন্টাগন। কারণ ওয়াশিংটনের ধারণা, এই যুদ্ধে ইরানকে ব্যাপকভাবে সহায়তার পেছনের মূল কারিগর চীন ও রাশিয়া।

সাউথ চয়না মর্নিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা ঘাটতি মেটাতে ‘গোল্ডেন ডোম’ নামক একটি উচ্চাভিলাষী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। তবে প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খরচ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারে। ওয়াশিংটন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং বাজেটের ভেতরে তাদের প্রতিরক্ষার এই বড় ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের মতে, হাইপারসনিক মিসাইল ট্র্যাকিং এবং উন্নত ডেটা নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য এই বাড়তি অর্থের প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ঘাটতি

হাইপারসনিক অস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল বা উন্নত ক্রুজ মিসাইলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুপস্থিতি উল্লেখ করে বারকোভিটজ বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে মূলত গোল্ডেন ডোম কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুদের হামলার উদ্দেশ্য প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। এর মাধ্যমে আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।

এ সময় বারকোভিটজ চীনকে প্রধান কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীন আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল বরাবর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে শক্তির অবস্থান থেকে চীনকে প্রতিহত করব।

চ্যালেঞ্জ

গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহাকাশভিত্তিক এই ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম তথা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছিলেন। তার লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।

প্রাথমিকভাবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারে।

গোল্ডেন ডোম কর্মসূচির ম্যানেজার জেনারেল মাইকেল গুইটলেইন জানিয়েছেন, এই অতিরিক্ত অর্থ আকাশে চলমান লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, মহাকাশ ডেটা নেটওয়ার্কিং এবং হাইপারসনিক মিসাইল ট্র্যাকিং বা শনাক্তকরণে সহায়তা করবে। তবে ব্যয় আর বাড়বে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। 

গোল্ডেন ডোম যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় একটি বড় পরিবর্তন। এটি কেবল ছোটখাটো হুমকি মোকাবিলা নয়, বরং চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর বড় ধরনের আক্রমণ সামলানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে কি না, নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না— সেটি এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।