নয়াদিল্লিতে আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি, দেশে ফিরছেন অভিজিৎ

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার ভার্চুয়াল জগৎ ছেড়ে সরাসরি রাজপথে আন্দোলনে নামছে। এই উদ্দেশ্যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের নয়াদিল্লি ফিরে আসছেন। দেশটির বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।
বোস্টন ইউনিভার্সিটির ৩০ বছর বয়সী স্নাতক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে। শুক্রবার (৫ জুন) তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আজ শনিবার (৬ জুন) একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইতেই মূলত তার দেশে ফেরা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে গত ১৬ মে এই প্যারোডি দলটির নাম ঘোষণা করেন অভিজিৎ।
জানা যায়, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার শুনানির সময় সরকারের সমালোচনা করা তরুণদের ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) এবং ‘পরজীবী’ বলে সম্বোধন করেছেন। তার এমন মন্তব্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যদিও প্রধান বিচারপতি পরে দাবি করেন, তার মন্তব্যকে ভুল প্রসঙ্গে টেনে আনা হয়েছে।
তবে ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) সাবেক কর্মী ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সিজেপি গঠন করেন। ‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট’ — এই স্লোগানকে সঙ্গী করে রাতারাতি দলটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অধীনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরীক্ষায় বড়সড় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তার পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি।
দেশে ফেরার পথে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিজিৎ দিপকে লিখেছেন, ‘ভারতের পথে... আমার ভাগ্য সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিচ্ছি।’
এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন লাদাখের বিখ্যাত ৫৯ বছর বয়সী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। হিমালয় অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের জেরে গত সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাস বন্দি থাকা এই নেতা জানিয়েছেন, তিনিও শনিবারের এই প্রতিবাদে অংশ নেবেন।
ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের ওপর সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকায় সিজেপির বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে ব্লক করা হয়েছে। তবে এখনও সচল থাকা তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা ২২ মিলিয়নেরও বেশি, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির (৯ মিলিয়ন) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের (১৩ মিলিয়ন) চেয়েও দ্বিগুণেরও বেশি।
এদিকে ভারতে পৌঁছানোর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ তার সমর্থকদের দিল্লি বিমানবন্দরে ভিড় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিমানবন্দরে জমায়েত হওয়ার যে সাড়া আমরা পেয়েছি, তা কল্পনাতীত। কিন্তু এত মানুষের জমায়েতে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমস্যা হবে।’
তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিমানবন্দর থেকে নেমে তিনি সরাসরি পুলিশের কাছে গিয়ে শনিবারের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি চাইবেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক, তাই কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেন।’
.png)

