ইয়েমেনের সানায় সৌদির হামলা, হুতির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সোমবার ভোরে (২৬ অক্টোবর) এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সৌদি জোট।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, ধ্বংস করা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলোর একটি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে জোটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী রোববার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৩টি সামরিক অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর প্রায় ২১৮ জন যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৮টি সামরিক যান ও অস্ত্র ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল হুতিদের অগ্রবর্তী কমান্ড সেন্টার, সামরিক ঘাঁটি ও দুর্গ, গোলাবর্ষণের অবস্থান, সেনা সমাবেশ, অতিরিক্ত সেনা ও রসদ পাঠানোর বহর এবং সরবরাহকারী যানবাহন।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, এসব হামলার ফলে সম্মুখসারিতে হুতিদের জন্য পাঠানো অতিরিক্ত সেনা ও রসদ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বাহিনীর অভিযান ও স্থল হামলা পরিচালনায় সহায়তা মিলেছে।
তবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হওয়া ২১৮ জনের মধ্যে কতজন নিহত এবং কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও আশপাশের কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, যার মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং এডেন শহর নিয়ন্ত্রণ করছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে লড়াই বেড়েছে। কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো বিরোধ চলছে।
