ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা করল ইরান

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের জন্য দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) উগ্রবাদী গোষ্ঠী বলে ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বলে অভিহিত করেছে ইরান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পর পাল্টা পদক্ষেপে আইনের ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপীয়রা আসলে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে। আমেরিকানদের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কারণে তারা তাদের নিজস্ব জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা ক্যালাস বৃহস্পতিবার আইআরজিসির বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইরানে চলমান দমন-পীড়নে আমরা চুপ থাকতে পারি না। যে শাসন ব্যবস্থায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, সেখানকার সরকার তার নিজের ধ্বংস ডেকে আনে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানে চলমান সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ছয় হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সৃষ্ট এ আন্দোলন দেশটির সরকারের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভে সময় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ঘোষণা করেনি। দেশটি জানিয়েছে যে চলমান আন্দোলনের সময় কমপক্ষে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন ‘নিরপরাধ’ বিক্ষোভকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
এর আগে ৮ জানুয়ারি রাতে তীব্র বিক্ষোভের সময়, ইরানজুড়ে ইন্টারনেট এবং মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
আইআরজিসি হচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি শাখা। এটি ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদস্যরা নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে। এ সামরিক বাহিনী তাদের কাজের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহিতা করে। তারা ইরানের প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক অভিযান এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
সূত্র: আল-জাজিরা