logo

যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম সমকামী সিনেটর ক্রিস পাপ্পাস

যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম সমকামী সিনেটর ক্রিস পাপ্পাস
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপ্পাস। ছবি: রয়টার্স

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে সমকামীদের নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মন্তব্য ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে তখন আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর সেই প্রশ্নের উত্তর যেন অন্যভাবে দিয়েছেন ভোটাররা। নিউ হ্যাম্পশায়ারে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম সমকামী সদস্য হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপ্পাস।

রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর জন সুনুনুকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি জিতেছেন ৪৬ বছর বয়সী পাপ্পাস। তার এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ মার্কিন ইতিহাসের প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম সমকামী ব্যক্তি হিসেবে তিনি সিনেটে নিজের জায়গা করে নিলেন।

সিএনএন বলছে, এর আগে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম সমকামী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এবার সিনেটে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।

রাজনীতিতে আসার পথটা পাপ্পাসের জন্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি পরিবারের রেস্তোরাঁ ব্যবসায় কাজ করতেন। সমলিঙ্গের বিয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পর ভ্যান বেন্টলিকে বিয়ে করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই স্বামী ভ্যানকে পাশে পেয়েছেন পাপ্পাস।

যুক্তরাষ্ট্রে সমলিঙ্গের বিয়ে আইনত বৈধ হলেও সমাজের সব স্তরে সমকামীদের সমানভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা এখনও তৈরি হয়নি। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সমকামীদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারেও এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

তবে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই সমকামীদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য দূর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন পাপ্পাস। তার নির্বাচনী জয়কে তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সমকামীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর পাপ্পাস বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন যেসব ধনকুবের, এই ফলাফল তাদের জন্য বড় ধাক্কা।’

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মন্ডের প্রতিবেদন অনুসারে, পেপাস ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কংগ্রেসনাল ইকুয়ালিটি ককাসের সহ-সভাপতিও। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি লিখেছেন, ‘কেউ কে বা কাকে ভালোবাসেন, সে কারণে তার সঙ্গে বৈষম্য করা উচিত নয়। সব আমেরিকানের মর্যাদা ও সমতার জন্য লড়াই করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

পাপ্পাসকে সমর্থন দেওয়া এলজিবিটিকিউ অধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন (এইচআরসি) তার ‘ঐতিহাসিক জয়কে’ স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি তাকে ‘সমতার একনিষ্ঠ প্রবক্তা’ বলে উল্লেখ করেছে।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডাকনাম ‘গ্রানাইট স্টেট’ উল্লেখ করে এইচআরসি বলেছে, ‘গ্রানাইট স্টেটের প্রতিটি মানুষের অধিকার রক্ষায় তার পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে আমরা প্রস্তুত।’ এলজিবিটিকিউ অধিকারবিষয়ক আরেক সংগঠন জিএলএএডিও পাপ্পাসকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তার এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে।