logo

২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ডিজেল সংকটের পূর্বাভাস আইইএর

২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ডিজেল সংকটের পূর্বাভাস আইইএর
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উইলিয়ামসে ‘ইন্টারস্টেট ৫’ মহাসড়কের পাশে ডিজেলের দাম সম্বলিত একটি সাইনবোর্ডের পাশ দিয়ে একটি ট্রাক যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহসংকট ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। এর ফলে জ্বালানিটির দাম দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ে থাকলে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এছাড়াও মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা কমাতে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই আইইএর এই সতর্কবার্তা এল।

শিল্পকারখানা, কৃষি, পণ্য পরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানিটির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তারা বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়েছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে ডিজেলের মজুত কমিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আইইএর মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজেলের রেকর্ড উচ্চমূল্য ইতোমধ্যে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ডিজেলের বাজারে সংকট আরও গভীর হয়েছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত জ্বালানির মজুত বাড়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কমছে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইইএ। সংস্থাটির মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান মজুতের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে ২০২৭ সালে সরবরাহে উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ার আগে আগামী কয়েক মাস বিশ্ববাজারে জ্বালানিটি নিয়ে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ও কৃষি ব্যয় বাড়লে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।