Advertisement

অবশেষে অনশন ভাঙার আভাস সোনম ওয়াংচুকের

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
অবশেষে অনশন ভাঙার আভাস সোনম ওয়াংচুকের
সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁস ও লাদাখকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের স্বীকৃতির দাবিতে টানা ২৫ দিন ধরে অনশনে থাকা খ্যাতনামা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অবশেষে অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন। গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালের আইসিইউতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তার রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সূত্রে এই খবর সামনে এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হঠাৎ মেদান্ত হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছান। প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকের সময় আইসিইউতে উপস্থিত সমস্ত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের বাইরে চলে যেতে বলা হয়েছিল।

বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করা, পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা প্রদান ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই মন্ত্রীর কাছে পুনরায় দাবি তুলে ধরেন সোনম।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবির কিছু অংশে ইতিবাচক আশ্বাস বা সবুজ সংকেত মিললে অনশন তুলে নেওয়ার ব্যাপারে নিজের সম্মতি প্রকাশ করেছেন এই পরিবেশকর্মী।

অনশনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। তবে দিল্লি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি নিজের পছন্দের বেসরকারি মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত হওয়ার অনুমতি পান। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে মেদান্ত হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ ২৫ দিন টানা অনাহারে থাকার ফলে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের সমস্ত সঞ্চিত শর্করা ও চর্বি শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন পেশির প্রোটিন ক্ষয় হতে শুরু করেছে এবং দ্রুত ওজন কমছে। হঠাৎ খাবার গ্রহণ করলে ‘রিফিডিং সিন্ড্রোম’-এর মতো মারাত্মক মেডিকেল জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তার সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রার ওপর নজর রাখছেন। বুধবার রক্তের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট সন্তোষজনক এলে তাকে বিকেলের পর আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে মেদান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।