logo

কী অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইরান

কী অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর জেরে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু। বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সেনাদের অবস্থান বা ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোই তাদের মূল লক্ষ্য। এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই চক্র কি শুধু পারস্পরিক ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের মধ্যেই সীমিত থাকবে, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের রূপ নিতে পারে? আলজাজিরায় প্রকাশিত এনেস আবু ওমেরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ কতটা দীর্ঘ হতে পারে, তা মূলত নির্ভর করে ইরানের সক্ষমতা, মিত্র বাহিনীর সঙ্গে তাদের সমন্বয় এবং নৌপথ ও অন্যান্য সামরিক কাঠামোর ওপর তাদের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার ওপর।

২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর এবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড তেহরানকে এ বার্তাই দিয়েছে, এ লড়াই মূলত ইরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ইরানের দৃষ্টিতে, প্রতিশোধে বিলম্ব বা সীমিত জবাব দেওয়াকে দুর্বলতা মনে করা হবে এবং এটি ভবিষ্যতে তাদের আরও হামলার মুখোমুখি করতে পারে। এই পটভূমিতে রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘খামেনি ও অন্য কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের দায়িত্ব এবং বৈধ অধিকার।’ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো সামরিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইরানের কাছে কী ধরনের প্রস্তুতি বা অস্ত্র রয়েছে? এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে এনেস আবু ওমেরের রিপোর্টে। 

ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাই তাদের প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার। ইরানের কাছে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার। এর মধ্যে আছে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। দীর্ঘ-পরিসরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুই থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যে হামলা করতে পারে। ফলে ইসরায়েল, উপসাগরীয় এলাকার মার্কিন ঘাঁটি এবং আশপাশের বৈরী দেশগুলোও তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যসীমার মধ্যে রয়েছে। তবে এগুলো দিয়ে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারবে না ইরান।

স্বল্প-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের কাছে রয়েছে ১৫০-৮০০ কিলোমিটার দূরত্বের স্বল্প-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো নিকটবর্তী সামরিক লক্ষ্য এবং দ্রুত আঞ্চলিক হামলার জন্য উপযুক্ত। জোলফগহার, কিয়াম-১ এবং শাহাব-১/২ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিকটবর্তী লক্ষ্যে হামলা চালানোর জন্য খুবই উপযুক্ত।

মধ্য-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র
দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্য-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আশপাশের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়ার জন্য বেশ বিধ্বংসী। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে শাহাব-৩, এমাদ, খাদর-১, খোররামশাহর ও সেজিল।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিচু উচ্চতায় উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম, ড্রোনের মাধ্যমে ব্যবহারের ফলে এটি হয়ে ওঠে আরো শক্তিশালী। সাউমার, ইয়াআলি, কুদস, হোভেইজে, পাভেহ ও রাআদের মতো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার আরও কয়েকটি উদাহরণ। এ ধরনের মিসাইলগুলো ড্রোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। ড্রোনের গতি কিছু ক্ষেত্রে কম হলেও এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে অনেকগুলো বহন করা যায় এবং এগুলো অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়বহুল। 
মাটির নিচের ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সেক্ষেত্রে ইরান কতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম? বহু বছর ধরে তেহরান মাটির নিচে এমন স্থাপনা বানিয়েছে, যেখানে রয়েছে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র। তাছাড়া এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে লুকানো ঘাঁটি ও সুরক্ষিত লঞ্চ সাইট। ভয়াবহ হামলা হলেও এসব লঞ্চ সাইট থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। 

bigStoryContent

হরমুজ প্রণালি
ইরানের প্রতিরোধ কৌশল কেবল স্থল লক্ষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব তাদের পক্ষে। অ্যান্টিশিপ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং দ্রুত আক্রমণকারী নৌযান ব্যবহার করে ইরান নৌ ও বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

bigStoryContent

খামেনির হত্যার পর একটি বিস্তৃত অভিযানের সংকেত দিয়েছে ইরান। এবার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র, একাধিক দেশে মার্কিন-সংলগ্ন স্থাপনায় হামলা এবং প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক রুট অবরোধের মাধ্যমে তারা এই বার্তাই দিচ্ছে যে, তারা এবার সীমিত যুদ্ধ নয়, চায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধ। পাশাপাশি ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো, যেমন—লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি তাদের এই প্রতিশোধে যুক্ত হওয়ার সংকেত দিয়েছে।