অবশেষে জানা গেল মোজতবা খামেনির অবস্থান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে। এতে তার সুস্থতা কিংবা জীবিত থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলর সঙ্গে চালানো যৌথ আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়, ওই হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর খামেনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।
যদিও এসব দাবি উড়িয়ে দেয় তেহরান। তবে স্পষ্ট করে জানায়নি, ঠিক কোথায় আছেন দেশের সুপ্রিম লিডার। এর মধ্যে শত্রুপক্ষ গুঞ্জন রটায় মিত্ররাষ্ট্র রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাকে। এবং সেখান থেকেই দুদিন আগে শিয়া অধ্যুষিত ইরাকি জনগণের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা বার্তা জানান।
কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি, ওই বিবৃতিটি তিনি মস্কো থেকে পাঠিয়েছেন। এর আগে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানের নববর্ষ নওরোজে দেওয়া প্রথম বিবৃতিও অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠান মোজতবা খামেনি। তার দুটি বিবৃতিই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অন্য আরেকজন পাঠ করে শোনান।
এসব রটনার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেল। সংবাদমাধ্যম আরটিসিভিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি ইরানেই রয়েছেন। জনগণের বোঝা প্রয়োজন যে, তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত না হওয়ার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
রাশিয়ান এই কূটনীতিক বলেন, ইরানি নেতৃত্ব বারবার বলেছে, নতুন নেতা ইরানেই আছেন। কিন্তু শত্রুপক্ষের হায়েনা চোখ থেকে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। নিরাপত্তার কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত রয়েছেন।
তিনি জানান, আমি এখনো ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কথা বলেননি। অ্যালেক্সেই দেদভ স্মরণ করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই প্রথম ব্যক্তি যিনি মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুভেচ্চা বার্তায় প্রেসিডেন্ট তেহরানের প্রতি অবিচল সমর্থন ও মিত্র ইরানিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
সূত্র: তাস