দাসপ্রথাকে ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধ ঘোষণা জাতিসংঘের, আফ্রিকায় উচ্ছ্বাস

কুখ্যাত দাসপ্রথা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে জাতিসংঘে। গত বুধবার (২৫ মার্চ) পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে ট্রান্স অ্যাটলান্টিক দাস ব্যবসাকে ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আফ্রিকা নিউজের খবর জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হয়েছে।
বেনিনের নাগরিক ওয়েনসেসলাস অ্যাভোস একে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আফ্রিকানদের ওপর হওয়া অন্যায়ের এক শক্তিশালী স্বীকৃতি।’
এই প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা ছিল ঘানা। প্রস্তাবটি পাসের পর ঘানা, বেনিন ও টোগোর মানুষের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ছিল দাস ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র। এখান থেকেই জাহাজ ভর্তি করে আফ্রিকানদের দাস হিসেবে আমেরিকায় পাঠানো হতো।
আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া
মহাদেশীয় সংস্থা আফ্রিকান ইউনিয়ন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা ঘানাকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানায়। সংস্থাটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার ও সত্যের পথে এক বড় পদক্ষেপ।
এদিকে দাসপ্রথার কুপ্রভাব পুরোপুরি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহামুদ আলি ইউসুফ। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।