নাটকীয় মোড় নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড় নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে ‘শেষ মুহূর্তে’ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে পাকিস্তান।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ পেছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট।
এ বিষয়ে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে আল জাজিরাকে জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানে রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলা যায়, আমরা সংকটের সংবেদনশীল ধাপ থেকে এক ধাপ সামনে এগোতে পেরেছি। পরবর্তী ধাপে অপ্রয়োজনীয় বাগাড়ম্বর বা হুমকির পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।
এদিকে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে গভীর রাতে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সংলাপ প্রসারের উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সৌদি আরবের পর তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসহাক দার। ফোনালাপে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তান যে সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তার সর্বশেষ অগ্রগতি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
এর অগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কড়া হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে রাতের মধ্যে গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তবে, আমি চাই না এমনটা হোক। তবে সম্ভবত এটি হতে চলেছে। এরপরই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা শুরু হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ইরান সরকারের কোনো ‘অপরাধ বা ভুলের’ জন্য সে দেশের সাধারণ মানুষকে ‘চরম মূল্য’ দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
এছাড়া ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে ক্যাপিটল হিলে সিনেট ডেমোক্র্যাটরা একটি যৌথ নিন্দা প্রস্তাব জারি করেছেন। তারা প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের হুঁশিয়ারি—যেসব রিপাবলিকান এই যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, এর ভয়াবহ পরিণতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে তেহরান।
এক মাসের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। হামলায় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।