logo

যুদ্ধে বিধ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘যুদ্ধ জাদুঘর’ বানাচ্ছে ইরান

যুদ্ধে বিধ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘যুদ্ধ জাদুঘর’ বানাচ্ছে ইরান

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের জয়গান থাকার কথা সেখানে আজ কেবল ধ্বংসস্তূপ। একসময়ের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের উচ্ছ্বাস জাগানো বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল বানানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইরান। 

গত মার্চে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতা মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছিল ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি। বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সাক্ষী হিসেবে দেশটির ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়টির বিধ্বস্ত অংশকে ‘যুদ্ধ জাদুঘরে’ রূপান্তর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জাফরুল্লাহ কালানতারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা এই ধ্বংসস্তূপকে কেবল পাথর আর সিমেন্টের স্তূপ হিসেবে দেখছি না। এই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটিকে আমরা যুদ্ধ জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করব। এটি ইতিহাসের পাতায় আমাদের দেশের ওপর চালানো ‘বৈজ্ঞানিক নিপীড়নের’ এক অকাট্য দলিল হয়ে টিকে থাকবে।’

সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মূলত যুদ্ধের ক্ষতকে মুছে ফেলার পরিবর্তে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে বেসামরিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার স্বরূপ উন্মোচন করার একটি প্রয়াস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যম যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার।

তবে যুদ্ধের এই ক্ষত যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কালানতারি জানান, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিগুলোর জন্য আধুনিক ও উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক ফ্রন্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজধানী তেহরানসহ পুরো ইরানের অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও অসংখ্য আবাসিক ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের এ বর্বরতাকে নির্মম দৃষ্টান্ত হিসেবে অবহিত করেছে ইরান।