পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন, কী বলছে বুথফেরত জরিপ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে ভিন্ন ফলাফলের ইঙ্গিত মিলেছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় এই নির্বাচনের এবারও মূল লড়াই শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। অধিকাংশ সমীক্ষায় বিজেপি এগিয়ে থাকলেও কিছু জরিপে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে কে বসবে, তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৪ মে পর্যন্ত। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।
পিপলস পালসের জরিপে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৭–১৮৭ আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। বিজেপি পেতে পারে ৯৫–১১০ আসন। তবে প্রজা পোল অ্যানালিটিক্সের মতে, বিজেপি ১৭৮–২০৮ আসন পেয়ে সরকার গড়তে পারে, আর তৃণমূলের আসন নামতে পারে ৮৫–১১০-এ। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, অতীতের মতো এবারও এক্সিট পোলের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল চতুর্থবার সরকার গড়বে।
চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস তথ্য অনুযায়ী, বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ১৫০-১৬০টি আসন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৩০-১৪০টি আসন। এছাড়া অন্যনা দল পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন।
পোল ডায়েরি বলছে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেতে পারে ১৪২-১৭১টি, তৃণমূল কংগ্রেস ৯৯-১২৭টি আসন আরও অন্যান্য একটি। তবে ম্যাট্রিজের মতে, বিজেপি পেতে পারে ১৪৬-১৬১টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১২৫-১৪০টি আসন। এই জরিপে প্রধান দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতার ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে ‘পি মার্ক’-এর সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনে মধ্যে বিজেপি পেতে পারে ১৫০-১৭৫টি আসন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস পাচ্ছে ১১৮-১৩৮টি আসন। এছাড়া এবিপি নিউজের জরিপি উঠে এসছে বিজেপির জয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, বিজেপি পেতে পারে ১৫০-১৭৫টি আর তৃণমূল ১১৮-১৩৮টি আসন।
এদিকে বুথ ফেরত সমীক্ষায় বেশিরভাগ সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও গত দু’বারের মতো এবারও সেসব মিলবে না বলে দাবি করছে শাসকদল। তৃণমূল সূত্রের খবর, এক্সিট পোলে ইঙ্গিত যাই হোক, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল যে চতুর্থবার সরকার গড়তে চলেছে তাতে শাসকদলের সংশয় নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, গত বিধানসভা নির্বাচনেও সিংহভাগ এক্সিট পোল বিজেপি সরকার গড়ছে -এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রেকর্ড সংখ্যক আসন নিয়ে সরকার গড়ে তৃণমূল। ২০২৪-এ কেন্দ্রে এনডিএ ৪০০ পার করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয় বহু জরিপ সংস্থা। কিন্তু বাস্তবে সেটারও ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি পদ্ম শিবির। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকেও বেশ খানিকটা দূরে থেমে যায় নরেন্দ্র মোদির বিজয়রথ। এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলে মনে করছে তৃণমূল।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাথেই বুধবার অসম তামিলনাড়ু কেরল ও পুদুচেরির বুথফেরত জরিপও প্রকাশ্যেেএসেছে। যেখানে-
অসম: এনডিএর নিরঙ্কুশ জয়ের ইঙ্গিত
এনডিটিভির বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, অসমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র নিরঙ্কুশ জয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে বিজেপি ১২৬টি আসনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে জিততে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস পেতে পারে ২২ থেকে ৩০টি আসন। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ৮৮-১০০ আসন এবং কংগ্রেস পেতে পারে ২৪-৩৬ আসন। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ পেতে পারে ৮৮-১০০ আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি পেতে পারে ২৪-৩৬ আসন। যদিও ইতিহাস বলে, বুথ ফেরত সমীক্ষা অনেক সময়েই ভুল হয়। তবে, ভোটারদের মনোভাবের ইঙ্গিত পেতে এ ধরনের সমীক্ষা অনেক সময় সহায়কও হয়।
কেরল: পালাবদলের সম্ভাবনা
কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে ম্যাট্রিজ নিউজের বুথফেরত সমীক্ষায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ১৪০ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) ৭০ থেকে ৭৫টি আসন পেয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাজিক ফিগার ৭১-এর গণ্ডি পার করে ইউডিএফ-এর এই প্রত্যাবর্তন বামেদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, মালাবার, মধ্য কেরালা এবং দক্ষিণ কেরালা—তিনটি প্রধান অঞ্চলেই এলডিএফ-এর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইউডিএফ।
তামিলনাড়ু: ডিএমকে জোট এগিয়ে
তামিলনাড়ুর অধিকাংশ জরিপে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। ‘পোল অফ পোলস’ অনুযায়ী, ডিএমকে জোট ১২৬–১৪১ আসন পেতে পারে। এআইএডিএমকে দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে। অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে কিছু আসন পেতে পারে।
পুদুচেরি: এনডিএর পাল্লা ভারী
৩০ আসনের পুদুচেরি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৬টি আসন। পিপলস পালসের বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ জোট ১৬ থেকে ১৯টি আসন পেয়ে ম্যাজিক ফিগার পার করতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১০ থেকে ১২টি আসন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন। সব মিলিয়ে কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে এনডিএ জোটের পাল্লাই ভারী থাকছে।
সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২১৩ আসন, বিজেপি থেমেছিল ৭৭-এ। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএম একটিও আসন জেতেনি। এবার প্রায় সবাই ওই দুই দলকে ২-৫টি আসন দিচ্ছে।
বুধবার ছিল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট গ্রহণ। এই দফায় সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হয়েছে। এর আগে ২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা হবে। ভোটের চূড়ান্ত ফল জানা যাবে সেদিনই। শেষ মুহূর্তে বুথফেরত জরিপের হিসাব উল্টে যাবে কি না, ওই দিনই স্পষ্ট হবে।