ইরানে হামলা নিয়ে আগাম বাজি, প্রেডিকশন মার্কেট থেকে বিপুল অর্থ আয়

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে কিছু মানুষ প্রেডিকশন মার্কেট জাতীয় জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাজি ধরে বিপুল অর্থ আয় করেছেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইন্সাইডার ট্রেডিং বা গোপন তথ্য কেনাবেচার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘ম্যাগামিম্যান’ ছদ্মনামের নামে একজন পলিমার্কেট ব্যবহারকারী এক দিনেই আয় করেছেন ৫ লাখ ডলার। ইরানে হামলা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাজি ধরেছিলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ক্ষমতা হারাবেন। হামলা হওয়ার ৭১ মিনিট আগে, যখন এই ট্রেডটি শুরু হয়, তখন ইরানে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ।
ম্যাগামিম্যান ছাড়াও আরও কয়েকজন ব্যবহারকারীও হামলার আগে একই ধরনের বাজি ধরেছিলেন। পলিমার্কেট ও ক্যালশির মতো প্রেডিকশন মার্কেটে মানুষ রাজনীতি, যুদ্ধ, খেলাধুলা বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে অর্থ বাজি ধরতে পারে। ক্যালশি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই করে এবং এটি কমোডিটি ফিচারস ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) মাধ্যমে তদারকি করা হয়। তবে পলিমার্কেট ব্যবহারকারীদের অজ্ঞাত পরিচয়ে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে বাজি ধরার সুযোগ দেয়। যদিও মার্কিন নাগরিকরা আইনিভাবে সরাসরি এতে অংশ নিতে পারেন না, তবে ভিপিএন ব্যবহার করে অনেকেই এসব ট্রেডে অংশ নেন।
এসব বাজি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক নেতারা। ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, ‘এগুলো এক ধরনের পাগলামি এবং এক্ষেত্রে দ্রুত আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।’
ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা মিক মালভানি বলেন, ‘প্রেডিকশন মার্কেটকে জুয়ার মতোই নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করা উচিত।’
ক্যালশি জানিয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাজিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তারা নিশ্চিত করে, বাজিগুলো যেন কোনোভাবেই সরাসরি প্রাণহানির সঙ্গ সম্পর্কিত না হয়।
আর পলিমার্কেট জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে।
তবে এ ধরনের প্রেডিকশন জাতীয় জুয়ার বিস্তার হওয়ার কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোপন তথ্য ব্যবহার করে বড় অংকের অর্থ লেনদেন করা ঠিক না। কেননা, এটি শুধু রাজনৈতিক ও আইনগত নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতাও প্রভাবিত করতে পারে।