যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্থাপিত শর্তগুলো মেনে নিলে আগামী দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানিয়েছেন।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘাই জানান, দুই দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তার মতে, এটি ইরানের সদিচ্ছার আরেকটি প্রমাণ।
তিনি বলেন, ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু করা সম্ভব। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে ইরানের শর্তগুলো গ্রহণ করা না করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।
বাঘাইয়ের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিতে সম্মত হলেই কেবল পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যাবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
গত সেপ্টেম্বরে ইরান সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে পরিকল্পনার ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বন্ধ, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।
এদিকে, রোববার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্মত নতুন নৌপথ যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর পদক্ষেপও নিতে হবে।
গত আগস্ট থেকে ইরানের ওপর নতুন করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে তেহরান দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, দুই দেশেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলার হুমকি জোরালো করেছে।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাকে এখনো ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকাটিকে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনার অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে ইরান।
এদিকে, সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে ইরানের মুখপাত্র বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা হামলার জবাব দেওয়া হবে। হামলা যে পদ্ধতিতেই চালানো হোক না কেন, তেহরান তার শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক জবাব দেবে।

