logo

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৪ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়বে ইউরোপ

এএফপি
এএফপি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৪ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়বে ইউরোপ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৪ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ১২ ইউরোপীয় দেশ। ছবি: ইউএনএন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমাতে কৌশলগত মজুত থেকে ৪ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের ১২টি দেশ। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ নাগাদ এসব তেল বাজারে ছাড়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ৫ লাখ ব্যারেল হবে ডিজেল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জ্বালানিবিষয়ক কমিশনার ড্যান ইয়োরগেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত ৪ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে ইইউর সদস্য দেশগুলো তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর প্রায় অর্ধেকই হবে ডিজেল।

এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া দেশগুলো হলো ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, গ্রিস, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও সুইডেন।

চলতি মাসে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে জি-৭ অর্থনীতির দেশগুলো বিশ্ববাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত অক্টোবরের মাঝামাঝি শীত মৌসুমের আগে সদস্য দেশগুলোকে তেলের মজুত থেকে সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। ঘোষণায় অংশ নেওয়া ১২টি দেশই সংস্থাটির সদস্য।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এতে ইউরোপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ইইউ জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবারগুলোর ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে আপাতত উদ্বিগ্ন নয় সংস্থাটি।

ইয়োরগেনসেন বলেন, সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে তারা কোনো সংকটের আশঙ্কা করছেন না। তবে যেসব নাগরিকের পক্ষে জ্বালানির বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে বিষয়টি হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।