logo
Advertisement

নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর/চুল-মেকআপের পেছনে খরচ ১৬ লাখ টাকা, ধূমপানে ৬১ হাজার

জেরুজালেম পোস্ট
জেরুজালেম পোস্ট
ওয়াইনেট নিউজ
ওয়াইনেট নিউজ
চুল-মেকআপের পেছনে খরচ ১৬ লাখ টাকা, ধূমপানে ৬১ হাজার
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: অ্যাক্সিওস

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরের খরচের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করেছে তার কার্যালয়। নথিতে দেখা গেছে, ওই সফরে নেতানিয়াহু তার হেয়ারড্রেসারের ও মেকআপের জন্য ১৩ হাজার ডলারের বেশির অর্থ খরচ করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। আর ধূমপান ফি ৫০০ ডলার বা ৬১ হাজার টাকার কিছু বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির তথ্য অধিকার আইনের অধীনে করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে অলাভজনক নজরদারি সংস্থা হাতজলাখার (ন্যায্য সমাজ উন্নয়ন আন্দোলন) আইনজীবী এলাদ মানকে এসব তথ্য সরবরাহ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

নথিগুলোর মধ্যে সফরগুলোর বিলিং টেবিল, প্রতিনিধিদলের তালিকা ও সময়সূচি রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। দপ্তরটি জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বিলের পর্যালোচনার কার এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর চার দিনের ওয়াশিংটন সফরের খরচে সবচেয়ে চমকপ্রদ এন্ট্রি হলো মেকআপ আর্টিস্ট ও হেয়ারড্রেসারের বিল। মেকআপের জন্য ৬ হাজার ৭৭২ ডলার ও চুল কাটা ও কেশশয্যার জন্য ৬ হাজার ৭৪৭ ডলার; সব মিলিয়ে শুধু সাজগোজেই খরচ হয়েছে ১৩ হাজার ৫১৯ ডলার। ওই সফরে নেতানিয়াহুর স্যুইটের ভাড়া ছিল ২৫ হাজার ডলার। স্যুইটের ভেতরে খাবারের বিল এসেছে ৫১১.৫০ ডলার ও লন্ড্রি খরচ প্রায় ২৯৮ ডলার।

ছোট একটি এন্ট্রি আলাদা করে নজর কাড়ে। সেখানে লেখা: ‘স্মোকিং ফি—কনফারেন্স রুম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্স’। এর বিল ৫০০ ডলার। সফরকালে প্রতিনিধিদলের ব্যবহৃত সরঞ্জাম, যেমন আলোকসজ্জা ও আলোকচিত্র, পরিবহন, কর্মশালা, জলখাবার ও পানীয় বাবদ অতিরিক্ত খরচ হয়।

ওই বছরের এপ্রিল মাসের এক সফরে একজন মেকআপ আর্টিস্টের জন্য ৩ হাজার ৩৬ ডলার এবং একজন হেয়ারড্রেসারের জন্য ৩ হাজার ৩৬ ডলার খরচ করা হয়। দুটির মোট পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭২ ডলার। একই প্রতিবেদনে ‘প্রিন্টার ও টোনার’-এর জন্য ১ হাজার ২২৮ ডলার এবং ‘হোয়াইটবোর্ড ও কর্কবোর্ড’-এর জন্য প্রায় ২৪০ ডলার খরচের কথা উল্লেখ করা হয়।

সেই সফরের সর্বোচ্চ খরচ ছিল ওয়াশিংটনের ওয়াটারগেট হোটেলের জন্য ৫১ হাজার ৬৬১ ডলার। প্রতিবেদনে উল্লেখিত মোট খরচের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৯০০ ডলার।

এ ছাড়া জুলাই মাসের সফরসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের উইলার্ড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে থাকার জন্য ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০১ দশমিক ৬০ ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। এ ছাড়া ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে দূতাবাসের প্রবেশদ্বারের ত্রুটি মেরামতের’ জন্য একটি তালা-চাবি মেরামতকারী কোম্পানিকে ২৯৫ ডলার দেওয়া হয়েছিল।

নথিগুলোতে অ্যামাজন, কস্টকো, টার্গেট ও স্ট্যাপলস থেকে করা কেনাকাটার পাশাপাশি জলখাবার, অফিসের সরঞ্জাম, যানবাহন, শুল্ক ও ওভারটাইম বাবদ খরচের বিবরণও রয়েছে। জুলাই মাসের সফরের ব্যয় বিবরণীর মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৭০০ ডলার।

এরপর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন সফরের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ০৯.২৫’ শীর্ষক একটি ট্রাফিক টিকিটের পেছনে ১২৫ ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। সেই সফরে নিউইয়র্কের লোইজ রিজেন্সি হোটেলে নেতানিয়াহুর স্যুটের জন্য প্রতি রাতে খরচ হয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৯ ডলার। মোট খরচ ছিল ৪১ হাজার ৯৯৩ ডলার।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এই সফরটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময় নিউইয়র্কে হোটেল কক্ষের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে এবং অনেক আগেই কক্ষগুলো বুক হয়ে যায়।

নথিপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত কার্যসূচি থেকে দেখা যায়, এই সফরে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে প্যারাগুয়ে, সার্বিয়া ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং ফক্স নিউজ-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার ছিল।

পরে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে যান। সেখানে হোয়াইট হাউসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে নেতানিয়াহুর স্যুটের জন্য সর্বোচ্চ প্রতি রাতের মূল্য রেকর্ড করা হয়েছিল বছর শেষের ফ্লোরিডা সফরের সময়। এ সময় প্রতি রাতে খরচ ছিল ১০ হাজার ডলার। মোট খরচ ছিল ৫০ হাজার ডলার।

প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিনিধিদলের সদস্যদের জন্য একটি সাধারণ কক্ষের গড় ভাড়া ছিল প্রতি রাতে প্রায় ২৫০ ডলার। সরকারি কার্যসূচি থেকে দেখা যায়, এই সফরকালে নেতানিয়াহু অন্যদের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেন।