logo

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা জানা গেল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা জানা গেল

শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল চালু থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সমন্বিত হামলা চালানোর পর এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এরপর হরমুজ প্রণালি না খুললে কী হতে পারে তা নিয়ে ট্রাম্প হুমকি দিলেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এর পরেই এল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।

এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু বিষয় জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কী বলেছে
ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি আবারও খুলতে রাজি হয়, তাহলে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখবেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া পোস্টে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি এবং তা ছাড়িয়ে গেছি।’

এর আগে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারে’ এবং ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু ঘটবে, যা আর কখনোই ফিরিয়ে আনা যাবে না।’ ট্রাম্পের এমন বক্তব্য জাতিসংঘের সেক্রেটারি ও পোপের সমালোচনার মুখে পড়ে।

ইরান দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনুমোদনে সম্মত হয়েছে। এই চলাচল ইরানের সামরিক বাহিনী সমন্বয় করবে।

ইরান ১০ দফার একটি পরিকল্পনাও দিয়েছে। এর বেশ কিছু দাবির মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ‘পূর্ণাঙ্গ অঙ্গীকার’, যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় থাকা ইরানের তহবিল ও জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সবকিছু পুনর্গঠনের যে ব্যয় হবে তা সেটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে পুরোপুরি দেওয়া।

ইরান একইসাথে অঙ্গীকার জানিয়েছে, ‘ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না।’

এক বিবৃতিতে তেহরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, ‘যুদ্ধের ময়দানে ইরানের এই বিজয় রাজনৈতিক আলোচনাতেও প্রতিফলিত হবে।’

শাহবাজ শরিফের মত অনুসারে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হবে। ইসরায়েলের বক্তব্য, এখানে তারা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইসরায়েলি নেতৃত্ব জানিয়ে রেখেছে, হিজবুল্লাহ্‌র হুমকি পুরোপুরি শেষ না করে তারা লেবানন ছাড়বে না।

ইসরায়েলের দিক থেকে লেবানন বা অন্য কোথাও অভিযান স্থগিতের বিষয়ে সম্মতি কোনো কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

কী বলেছে ইসরায়েল
ট্রাম্পের ঘোষণার খানিক পরেই ইসরায়েলে সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জেরুজালেমে বেশ কিছু জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ইরান অবিলম্বে প্রণালি খুলে দিলে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে সব হামলা বন্ধ করলে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য আক্রমণ স্থগিত রাখবেন। এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন জানাচ্ছে।’

নেতানিয়াহুর বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, ‘এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।’ লেবাননে ইসরায়েলের স্থলবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহু কতটা জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

এরপর কী হবে
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান উভয় পক্ষকে শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সব রকমের বিরোধ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির জন্য একটি যথাযথ চুক্তির বিষয়ে আরও আলোচনাই এর লক্ষ্য।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মুখোমুখি বৈঠক নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি এও বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস ঘোষণা না দেওয়ার আগে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।’

আলোচনা যেভাবেই এগোক না কেন, তা খুবই জটিল হতে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গত এক বছরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা আলোচনা করেছে। প্রতিবারই আলোচনার মাঝামাঝি সময় থেকে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছে।