দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুংকার হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রীর

দীর্ঘ ১৬ বছর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেল হাঙ্গেরি। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পরই দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পেতের ম্যাগিয়ার। এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের দেশের হাতে সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই। এই বিজয় সত্যিই নতুন যুগের সূচনা, তা নিশ্চিত করতে আমাদের ক্ষমতার মধ্যে সবকিছু করব.. হাঙ্গেরির জনগণ শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ভোট দেয়নি, বরং শাসনব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থ দ্রুত অবমুক্ত করার আশায় ম্যাগিয়ার বলেছেন, তার সরকার দ্রুত দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি… আমরা একটি চুক্তি প্রস্তুত করতে পারব।’
তিনি বলেছেন, হাঙ্গেরি ‘আর কখনো পরিণামহীন দেশ হবে না’ এবং একটি জাতীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিশ্চিত করবে যে দেশ থেকে চুরি করা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
পরাজিত ভিক্টর অরবানের সাবেক অনুসারি ম্যাগিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। এটি তাকে সেইসব আইন বাতিল করার সুযোগ দেবে, যেগুলো বিদায়ী জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রীকে তার ১৬ বছরের শাসনামলে হাঙ্গেরিকে একটি ‘অগণতান্ত্রিক গণতন্ত্রে’ রূপান্তরিত করতে সাহায্য করেছিল।
অরবারের পরপর চারটি সরকার হাঙ্গরিতে আইনের শাসনকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশেষ করে নিজের অনুগত বিচারকদের দিয়ে আদালতগুলো ভরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রায় ৮০ শতাংশ গণমাধ্যমকে সরকারের মুখপাত্রে পরিণত করেছেন এবং ঘনিষ্ঠজনদের বিপুল সম্পদশালী বানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট মিত্র বিচার, অভিবাসন ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন নীতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থনও পেয়ে আসছিলেন তিনি।
ম্যাগিয়ারের মধ্য-ডানপন্থি দল তিসা সংসদের ১৯৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৩৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। আগামী ৪ মের মধ্যে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল নিশ্চিত করা হলে পরদিনই সরকার গঠনের কথা ভাবছেন তিনি।