logo
Advertisement

সীমান্তে ভিড়/২৮০ জনকে নেওয়া হলো হোল্ডিং সেন্টারে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
২৮০ জনকে নেওয়া হলো হোল্ডিং সেন্টারে
ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক রাখা ‘বাংলাদেশিরা’। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দিতেও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধরপাকড়ের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফিরতে সীমান্ত এলাকায় ভিড় করছেন শত শত ‘অনুপ্রবেশকারী’।

Advertisement

বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্ত ট্রেন, বাস, এমনকি গাড়ি ভাড়া করে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছেন অনেকেই। বিকেল পর্যন্ত এই সংখ্যা দেড় শতাধিকে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগের দিন রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে ধরে নিয়ে গেয়ে রাজ্য পুলিশ। এ ছাড়াও সীমান্তবর্তী দুটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে আরও ১৭০ জনকে। আটক সবাইকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করছে শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সমন্বয়ে তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে তাদের। বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য তাদের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে বিজিবির সঙ্গে।

তবে প্রশাসন সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার পর্যন্ত যেসব ‘বাংলাদেশিরা’ সীমান্তে এসেছিলেন, তাদের যাবতীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের মামলা রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আটক হওয়া ব্যক্তিরা যে ‘বাংলাদেশি’ প্রমাণিত হয়, তাহলে নিয়ম মেনে পরবর্তীতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে হস্তান্তর করবে বিজিবি। 

আটকৃতরা নিজেরাই জানিয়েছেন যে, তারা দালালের হাত ধরে বিভিন্ন সময়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর কলকাতাসহ বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছিলেন। কেউ থাকছিলেন রাজারহাটে, কেউ-বা হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। কেউ কেউ আবার সরাসরি দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরালায় বসবাস শুরু করেন। 

পশ্চিমবঙ্গ কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজ্যে প্রবেশ করে স্থানীয় দালালের সহায়তায় তারা ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করে ফেলেছিলেন। আর এই কাজে তাদের সহায়তা করেছিল আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নেতাকর্মীরা।