২০৩০ সালের মধ্যে শিল্প খাতে ৯০% এআই ব্যবহারের লক্ষ্য চীনের

২০৩০ সালের মধ্যে শিল্প খাতের ৯০ শতাংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) চীনের বার্ষিক রাজনৈতিক সম্মেলন ‘টু সেশনস’-এ গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত সমাধান করা জরুরি।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের এআই উন্নয়নে যে প্রযুক্তিগত বাধা তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেন তিনি।
১৫তম এই সম্মেলনে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার খসড়া সংসদে উপস্থাপন করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। চীনা দৈনিক দ্য চোসেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, খসড়ায় এবার ৫২ বার শুধু ‘এআই’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচ বছর আগের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় এ সংখ্যা ছিল ১১ বার।
এবারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার লক্ষ্য, উৎপাদননির্ভর শিল্প কাঠামো থেকে সরে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উচ্চমূল্য সংযোজন অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটানো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হলেও এবার জোর দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় কোম্পানিগুলোকেই অগ্রাধিকার দিতে চায় বেইজিং, যার মধ্যে রয়েছে ডিপসিক ও আলিবাবার মতো প্রতিষ্ঠান।
এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি নতুন জাতীয় প্রযুক্তি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগ বছরে গড়ে ৭ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বৃহৎ ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং বিদেশে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে এনে প্রায় ১০ লাখ এআই বিশেষজ্ঞ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০২৬ সালে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বাজেট আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৪২৬ দশমিক ৪০০ কোটি ইউয়ান করা হয়েছে।
তবে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিকে। নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি এএসএমএলের তৈরি ইইউভি লিথোগ্রাফি যন্ত্র চীনে রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেশটি চিপ উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তাইওয়ানের টিএসএমসি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে চীন। এই সীমাবদ্ধতা চীনা এআই চিপকে এনভিডিয়া ও এএমডির সমমানের দক্ষতা অর্জনেও বাধা দিচ্ছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় চীন চিপলেট ডিজাইন ও উন্নত চিপ প্যাকেজিং প্রযুক্তিকে জাতীয় কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন সূক্ষ্ম চিপ উৎপাদনের প্রতিযোগিতা এড়িয়ে বিকল্প পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বেইজিং। জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে সুজৌ ও উশির মতো শহরে উন্নত চিপ প্যাকেজিং কারখানা ও প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।