logo

যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চাপ দিচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চাপ দিচ্ছে ইরান

পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে ইরান। এই প্রস্তাবে দুই দেশের মধ্যেকার সমস্যাগুলোর সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা নয়, বরং সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

রোববার (৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস বা এপি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের একটি নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন। এর ফলে কোনো চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা নুর-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা পরিকল্পনার পাল্টা এই প্রস্তাবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, নৌ অবরোধের অবসান ঘটানো, অঞ্চলটি থেকে সেনা প্রত্যাহার ও লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানসহ সকল প্রকার শত্রুতা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নুর জানিয়েছে, ইরান একজন পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে জবাব পাঠিয়েছে। এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের একটি পূর্ববর্তী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি টিকে আছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছেন। বিশ্বের এই প্রধানতম সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

হরমুজ ইস্যুতে অনড় ইরান

রোববার ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বিষয়ে তার অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। এমনকি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতেও ফিরে যাবে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কাজ করছে ইরান সরকার। ট্রাম্পের অবরোধ পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে।

নিকজাদ ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন যে কোনো জাহাজ টোল পরিশোধ করে পার হতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে যে, নিরাপদে পার হওয়ার জন্য ডিজিটাল সম্পদসহ যে কোনো উপায়ে ইরানকে অর্থ প্রদান করলে তারা নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজ আক্রমণ এবং হুমকি দিয়ে প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে তেহরান কিছু জাহাজকে তার উপকূলের কাছাকাছি পথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে এর জন্য মাশুলও আদায় করে।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে তেহরান তার দুর্বল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় তেল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।